দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সরকারি খাল দখলমুক্তের দাবিতে বাগেরহাটে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি

57

বাগেরহাট :

বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে এলাকাবাসী ও সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মসূচির প্রথম দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক, জেলে, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, জেলার অধিকাংশ সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অবৈধ দখলে রয়েছে। খালগুলোতে বাঁধ ও পাটা বসিয়ে মাছ চাষ করায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিতে সময়মতো পানি না পৌঁছানো, নৌযান চলাচলে বিঘ্ন, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে জেলার সরকারি খালগুলো জরুরি ভিত্তিতে দখলমুক্ত করা, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, খালের সীমানা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল, হোজির খালসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।

অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের প্রতিনিধি শেখ ইমরান বলেন, বাগেরহাটের সব প্রবাহমান খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একসময় এসব খাল থেকে মাছ ধরে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে প্রভাবশালীরা বাঁধ ও পাটা দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে মাছ চাষ করছেন। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রতিবাদও করতে পারছেন না।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া বমাফুজ মাঝি বলেন, শুধু বাগেরহাট সদর নয়, রামপালেও একই চিত্র। ইয়াসিন খাল, ঝনঝনিয়ার খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল দখল হয়ে আছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই সব সরকারি খাল দ্রুত দখলমুক্ত করতে হবে।

পশ্চিম ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা শেখ মারুফ বলেন, মান্দারতলা খালসহ আমাদের এলাকার অধিকাংশ খাল দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে রয়েছে। খালগুলো উন্মুক্ত না থাকায় চিংড়ি চাষ ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বহুবার আবেদন, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি খাল দখল করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। আমরা চাই সরকারি খাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। খাল দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের স্বার্থে সরকারি খাল সংরক্ষণ এবং স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সরকারি খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জনগণের স্বার্থে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।