দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী

29

ঢাকা:

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে থাকায় তারা যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে পারে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’-এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট ও গুম-হত্যার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানোর কথা বলা হলেও তাকে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দেশের মর্যাদা রক্ষায় তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গে রিজভী আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিনই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর প্রচার করা হয়।

রিজভী দাবি করেন, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। তার ভাষ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ‘সুইচ’ ভারতের ঝাড়খণ্ডে থাকায় যেকোনো সময় সরবরাহ বন্ধ বা চালু করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন আছে কি না।

শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভারতে অবস্থানের বিষয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনেকে ভারতে পালিয়ে রয়েছে এবং তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, বর্তমান সরকার এ সংকট তৈরি করেনি; এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। সংকট মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে রিজভী দাবি করেন, চলমান সংকটের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও এর আশপাশের কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বক্তব্য দেন তিনি। রিজভী অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

সমাবেশে বক্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বাসসের প্রতিবেদনেও একই দিনের কর্মসূচিতে রিজভীর জাতীয় ঐক্য ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।