দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাইকগাছায় নালিশি জমি নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ, শালিসি বৈঠকে নিষ্পত্তির চেষ্টা

29

পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় রেকর্ডভুক্ত জমি ভোগদখলে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন সরদার অভিযোগ করেছেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষ হাবিবুর রহমান গং তার জমি ভোগদখলে বাধা দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রতিপক্ষকে বিরোধ মীমাংসার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন শালিসে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের মুহাম্মদ সায়েম উদ্দিন সরদার ও তার ছেলে ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন সরদার পাইকগাছা মৌজার এসএ ২১৪ ও ২১৫ এবং বিআরএস ৮২ খতিয়ানের এসএ ৩২ ও বিআরএস ৫৫ দাগে দুইটি কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালের ১০ এপ্রিল ৫৩৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে সায়েম উদ্দিন সরদার আকবর আলী গাজীর কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম. এ. মাজেদের কাছ থেকে ১১৬৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আমিন উদ্দিন সরদার আরও ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তারা জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।

বর্তমান জরিপে ১৬ শতক জমির মধ্যে ৪ শতক আমিন উদ্দিন সরদারের নামে, ১০ শতক এক নম্বর খতিয়ানে এবং ২ শতক প্রতিপক্ষ হাবিবুর রহমান গংদের নামে রেকর্ড হয়। বিষয়টি জানার পর ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি আমিন উদ্দিন সরদার পাইকগাছা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ০৫/২০২৫। আদালত ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে তিনি মোট ১৬ শতক জমির মালিকানা ফিরে পান।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায়ের পরও প্রতিপক্ষ জমি ভোগদখলে বাধা দিলে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেন আমিন উদ্দিন সরদার।

অভিযোগ তদন্তের জন্য ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মণ্ডল তিনজন ইউপি সদস্য এবং বিএনপি ও জামায়াতের দুইজন নেতাকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ৪ জুলাই দুই পক্ষকে নিয়ে শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শালিসি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে আমিন উদ্দিন সরদার ১৬ শতক এবং হাবিবুর রহমান গং ৪ শতক জমি ভোগদখল করবেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে শালিসে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য হাবিবুর রহমানকে এক সপ্তাহ সময় দেন।

শালিসি বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।