দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

তাঁতীদল নেতা হুমায়ুন হত্যাকাণ্ডে, গ্রেপ্তার ১

33

ফ্রিজের কিস্তির টাকা চাইতে গিয়ে তাঁতীদল নেতার সাথে বিরোধ বাধে ছাত্রদল নেতা আরাফাতের। আর এ বিরোধের জের ধরে সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হয়। গত রবিবার রাতে এ মামলার এজাহার নামীয় আসামি শেখ সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ১৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফত ও বায়োজিদ মোস্তর মোড়ে ইলেকট্রনিক্স’র দোকান রয়েছে। ওই দোকান থেকে তাঁতীদল নেতা কিস্তিতে একটি ফ্রিজ ক্রয় করেন। কিন্তু কিস্তির টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় এ নিয়ে প্রায় তাদের বাগ্বিতণ্ডা হতো। গত রবিবার বিকেলে আরাফাত কিস্তির টাকা নিতে তাঁতীদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এল-ক্যান্টিনোতে যায়। তখনও তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। কিন্তু তাঁতীদল নেতার সাথে লোকজন থাকায় সুবিধা করতে পারেনি ছাত্রদল নেতা আরাফত। সন্ধ্যার পর হুময়ুন কবিরের সাথে লোকজন না থাকায় ছাত্রদল নেতাসহ আরও কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করতে থাকে। দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা হুমায়ুন কবিরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ঘটনার সময়ে আরাফতের সাথে মইন, ফায়েক ও বায়োজিত ছিল। এর আগে আরাফাত ও ফায়েকের সাথে বিকেলে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। এর পরপরই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হুমায়ুনের ওপর হামলা চালায়।

আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হালিমুর রহমান বলেন, রাতে এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরও ২-৩ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রবিবার রাতে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামি শেখ সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই এলাকার শেখ ইদ্রিস আলীর ছেলে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি। তার তথ্য অনুযায়ী অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে কথা হয় নিহতের বড়ভাই সৈয়দ জাহাঙ্গীরের তিনি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

এদিকে দুপুরের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। আসরের পর স্থানীয় একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।