দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে ঢাকা বিভাগে বদলি ইউএন

28

কেশবপুর :

প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবিক উদ্যোগ ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেশবপুরের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রেকসোনা খাতুন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি ঢাকা বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়েছেন। তাঁর বদলির খবরে কেশবপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আবেগঘন বিদায়ের অনুভূতি।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুরে যোগদানের পর থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ১৪৪টি গ্রামের মানুষের কাছে সরকারি সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে কাজ করেন তিনি। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রমে সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন ইউএনও রেকসোনা খাতুন। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর নেতৃত্বে কেশবপুরে সুশাসন, উন্নয়ন কার্যক্রম ও জনসেবার গতি আরও বাড়ে।

দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তীব্র শীতের সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিজে উপস্থিত থেকে প্রায় দুই হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। এছাড়া অসহায়, দুস্থ, রোগাক্রান্ত ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আটজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণের উদ্যোগও স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধন এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি, প্রশাসনিক সেবা প্রদান এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতা তাঁকে একজন কর্মঠ ও জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

বিদায়ী অনুভূতি জানিয়ে ইউএনও মোছাঃ রেকসোনা খাতুন বলেন, “কেশবপুর আমার কর্মজীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসনের সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুধীজন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এসব কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। আমি কেশবপুরবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নতুন কর্মস্থলেও দেশ ও জনগণের কল্যাণে একই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”

এদিকে দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর বদলিতে কেশবপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন কর্মস্থলে তাঁর সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, জনবান্ধব, কর্মঠ ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে মোছাঃ রেকসোনা খাতুন কেশবপুরবাসীর কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।