দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

এলাকার উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ মেহেবুব হাসান মামুন: মানুষের সেবাতেই যার আত্মতৃপ্তি

38

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তিগত সাফল্য ও কর্মজীবনের প্রতিযোগিতাই অধিকাংশ মানুষের প্রধান লক্ষ্য, তখন ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ৮ নং নন্দনপুর এলাকার তরুণ সমাজকর্মী মেহেবুব হাসান মামুন। উচ্চশিক্ষিত হয়েও সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির মোহে না ছুটে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন এলাকার মানুষের কল্যাণে। মানুষের সেবাকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও আনন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

স্থানীয়দের কাছে মামুন একজন পরোপকারী, মানবিক ও নিরহংকার মানুষ হিসেবে পরিচিত। পরিচিতজনদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় একাধিকবার বেসরকারি চাকরির সুযোগ এলেও তিনি সেসব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার একটাই কথা, মানুষের ভালোবাসা, স্নেহ আর দোয়া নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই।

খুলনা শহরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রায়ই দেখা যায় মামুনকে। কখনও আদালতপাড়া, কখনও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস কিংবা বিআরটিএ, প্রায় সব জায়গাতেই তিনি ছুটে বেড়ান এলাকার সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে। নিজের কোনো কাজ নয়, বরং এলাকার কোনো ভাই, বোন, চাচা, কাকা, নানা কিংবা দাদার প্রয়োজনেই তার এই নিরন্তর ছুটে চলা।

অনেকেই বলেন, মামুনকে খুঁজলে পাওয়া যাবে মানুষের কাজের মধ্যেই। নিজের জন্য সময় কম দিলেও অন্যের প্রয়োজনে তিনি সবসময় প্রস্তুত।

পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে অসুস্থ মা ও স্ত্রী বহুবার তাকে সংসারে আরও বেশি সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি। দিন হোক কিংবা গভীর রাত, কারও প্রয়োজনের খবর পেলেই ছুটে যান সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।

শুধু ব্যক্তিগত সহায়তাই নয়, সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন মামুন। এলাকায় যুবকদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন। তরুণদের সচেতন করে সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণেও রয়েছে তার সমান আগ্রহ। নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করেন স্থানীয় যুবকদের নিয়ে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশ কিংবা বাঁকে ঝোপঝাড়ের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলে সূর্য ওঠার আগেই বেরিয়ে পড়েন সেগুলো পরিষ্কার করতে। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমন স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশ নেওয়াই যেন তার নিত্যদিনের অভ্যাস।

নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, মামুন নিজের জন্য তেমন কিছুই করেন না। কিন্তু তার কাছে সাহায্য চেয়ে খালি হাতে ফিরেছেন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার বিনয়, আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করে।

স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকায় মামুনের মতো একজন ছেলে থাকা সত্যিই গর্বের। সে সবসময় মানুষের পাশে থাকে। কোনো কাজকে ছোট মনে করে না। এমন মানুষ সমাজে খুবই প্রয়োজন।

আরেকজন বলেন, সরকারি চাকরি না করেও একজন মানুষ যে সমাজের এত বড় সম্পদ হতে পারেন, মামুন তার জীবন্ত উদাহরণ।

স্বার্থপরতার এই সময়ে মেহেবুব হাসান মামুন প্রমাণ করেছেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য বড় কোনো পদ বা ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন আন্তরিকতা, মানবিকতা এবং মানুষের জন্য কাজ করার অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

রূপসার নন্দনপুরের এই তরুণ আজ শুধু একটি এলাকার নয়, মানবসেবার মাধ্যমে গোটা সমাজের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যার সবচেয়ে বড় অর্জন, সেই মেহেবুব হাসান মামুন নিঃসন্দেহে এলাকার অহংকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।