দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বিক্ষোভ- স্লোগানে উত্তাল ভারত, সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক অন্তত ৫ হাজার

11

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি সহ দেশটির বিভিন্ন অংশ। দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন দমনপীড়ন ও ধরপাকড় সত্ত্বেও শনিবার হাজার হাজার ছাত্র, তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মী রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুর ২টার মধ্যেই প্রায় ৫ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

দিল্লিতে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁদের একটি প্রিজন ভ্যানে তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরানো হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বারকা নর্থ থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে দলের পাঁচ সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসেছেন তিনি। মমতা ঘোষণা করেছেন, তিনি আজ রাতে কলকাতা ফিরছেন না এবং আগামী সোমবার ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে যোগ দেবেন।
দেশজুড়ে তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সহ হাজার হাজার মানুষের এই নির্বিচারে আটকের তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। তিনি এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে লিখেছেন, “ভারত আর গণতন্ত্র নেই, এটি নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের চালানো একটি একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছে।” প্রিয়াঙ্কা আরও অভিযোগ করেন যে, মোদী-শাহ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করেছেন এবং নিজেদের অবৈধ সরকার বাঁচাতে আজ দেশের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করছেন।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ‘ডিজি পিব’ এবং ‘এসএফএলসি.ইন’-এর পক্ষ থেকে অবিলম্বে সমস্ত সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। দিল্লি ছাড়াও পুনেতে ‘স্ক্রল’-এর সাংবাদিক দিব্যা অলেশাকেও আটক করার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আইসা নেত্রী নেহা বোরা ও অন্যান্য আটক নেতাদের ফোন কেড়ে নেওয়া এবং আইনজীবীদের দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনটি।

রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজসেবী যোগেন্দ্র যাদব দাবি করেছেন, সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও কারফিউয়ের মতো পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই আন্দোলনকারীরা দিল্লির একাধিক স্থানে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ গড়ে তুলতে সফল হয়েছেন। এই গণআন্দোলনে যোগ দেওয়া প্রবীণ সমাজকর্মী ও আইনজীবীদের ওপরও পুলিশের চড়াও হওয়ার ভিডিও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনাকে ‘মবক্রেসি’ বা বিশৃঙ্খলা আখ্যা দিয়ে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র একে গণতন্ত্রের জয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “দিল্লিকে পণবন্দি করার এই চেষ্টা একটি ফ্লপ শোতে পরিণত হয়েছে। আজ সমস্ত নৈরাজ্যবাদীদের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।”