কেশবপুর:
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নাজমুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার সভাপতি মো. শাহিনূর রহমান (শাহিন) এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র মো. আব্দুল হালিম, উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, কার্যনির্বাহী সভাপতি মো. হযরত আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. গোলাম হুসাইন, মো. মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. আজিজুল রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান (জিয়া), কার্যনির্বাহী সদস্য সুধীর কুমার দেবনাথসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং বিদ্যালয়ে আনন্দমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি এ কে এম নাজমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ সম্প্রসারণ, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার মান অর্জন সম্ভব নয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. শাহিনূর রহমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, কার্যকর পাঠদান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভা শেষে সংগঠনের বার্ষিক কার্যক্রম পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং শিক্ষক সমাজের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।