দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

পাইকগাছায় স্কুলের একাডেমিক ভবন ঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান

98

পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। পাশাপাশি ড্রেনের নোংরা পানি, মশা ও মাছির উপদ্রবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনে গত ছয় মাস ধরে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরের পূর্ব পাশের একাডেমিক ভবন এবং শহীদ মিনারের পেছনে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আশপাশের বাসাবাড়ি ও দোকানের বর্জ্য জমতে জমতে জায়গাটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পাশের ড্রেনের নোংরা পানি ও একটি ভবনের পাইপ থেকে বের হওয়া পানিও বিদ্যালয়ের দেয়ালসংলগ্ন এলাকায় পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এতে শুধু সহচরী বিদ্যামন্দির নয়, পাশের কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় মাস্ক পরে থাকতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল জানান, দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবের কারণে পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার লোকজন দিয়ে ময়লা অপসারণ করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে কে বা কারা পূর্ব পাশের একাডেমিক ভবনের পেছনের কয়েকটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশের ভবনের পাইপ ফেটে নোংরা পানি বিদ্যালয়ের দেয়ালে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে জায়গাটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্জ্য আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সহচরী বিদ্যামন্দিরের একাধিক শিক্ষক জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনও করেছেন। এরপরও ময়লার স্তূপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

অভিভাবকেরা জানান, টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশপাশে খেলাধুলা করে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারছে না। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এলাকার বাসিন্দা সুজন বলেন, “স্কুলের এই পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় নাক-মুখ চেপে ধরতে হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে এই দুর্গন্ধের মধ্যে ক্লাস করে, তা ভাবতেই কষ্ট হয়।”

সহচরী বিদ্যামন্দিরের সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কয়েক মাস আগেও তাদের ওই ভবনে ক্লাস হতো। কিন্তু দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তাদের অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখেন। পরে পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।

এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, সমস্যাটি সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে ৮০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩৫ জন। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে ময়লার ভাগাড়টি স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।