দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

নর্দান ইউনিভার্সিটি খুলনার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

21

প্রায় ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন পাওনা পরিশোধ না করা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, দায়িত্ব পালনে বাধা, চাকরিচ্যুতির হুমকি, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জীবননাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার (NUBTK) শীর্ষ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ ও পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (মার্কেটিং, প্রমোশন অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং) মো. মাহমুদ হাসান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। মাহমুদ হাসানের দাবি, দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও তাঁর প্রায় ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। তাঁর হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মোট পাওনার পরিমাণ ১ কোটি ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫৮ টাকা। লিখিত বক্তব্যে মাহমুদ হাসান বলেন, তিনি ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনায় কর্মরত। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়নি। পাওনা পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাওনা অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মক্ষেত্রে তাঁকে বিভিন্নভাবে অপমান ও হয়রানি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ও তিনি অবগত হয়েছেন এবং এসব বিষয়ে কথা বলার কারণে তাঁকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। মাহমুদ হাসানের দাবি, বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনা আদায়ের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পাওনা পরিশোধ ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তাঁর পাওনা অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মাহমুদ হাসান বলেন, দীর্ঘদিন চাকরি করার পর একজন কর্মীর বৈধ পাওনা আটকে রাখা হলে তা শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট তৈরি করে না, বরং প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন সৃষ্টি করে। তিনি তাঁর পাওনা দ্রুত পরিশোধ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।