যশোর:
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে যশোরের কেশবপুরে আবেগঘন পরিবেশে শহীদ তৌহিদুর রহমানের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ তৌহিদুর রহমানের পিতা আব্দুর জব্বার মোল্যা। তাঁর হৃদয়বিদারক দোয়া ও কান্নায় উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলা ও কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি যশোর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. নুরুজ্জামান, যুগ্ম সমন্বয়কারী সাজিদ সরোয়ার, কেশবপুর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. সম্রাট হোসেন, যুগ্ম সমন্বয়কারী জাহিদ হাসানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
দোয়া মাহফিল শেষে বক্তব্যে এনসিপি যশোর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. নুরুজ্জামান বলেন, শহীদ তৌহিদুর রহমান শুধু যশোরের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের রাজনীতি করতে চায়। একটি সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এনসিপি কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শহীদ তৌহিদুর রহমানের পিতা আব্দুর জব্বার মোল্যার মোনাজাত। ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেন, “আমার সন্তানের মতো যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা যেন জাতি চিরদিন রক্ষা করে। আমি চাই, শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ একদিন বাস্তবে পরিণত হোক।”
মোনাজাতে জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে দলটি জনগণের পাশে থেকে কাজ চালিয়ে যাবে।
শহীদ তৌহিদুর রহমানের কবরের পাশে বাবার অশ্রুসিক্ত মোনাজাত ও নীরব শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, আর সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা জাতির সবার দায়িত্ব।