দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

গ্যাস সরবরাহ শুরু: জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট

29

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি এবং চলমান জ্বালানি সংকট লাঘবে এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস্ কোম্পানী লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

শনিবার বিজিএফসিএল-এর আওতাধীন তিতাস গ্যাস ফিল্ডের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে, যা দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান গ্যাস সংকট নিরসনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গতকাল আয়োজিত এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, এমপি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব জনাব মোঃ জিয়াউল হক। এছাড়া পেট্রোবাংলা, বিজিএফসিএল এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ চলমান গভীর অনুসন্ধান কূপ ‘তিতাস-৩১’ এবং ‘তিতাস-২৯’-এর খনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর অংশ হিসেবে তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিসিপিসিডি’ (CCDC), চায়নার সাথে গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে তিতাস-২৮ কূপে খনন কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৯ জুন সম্পন্ন হয়। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কূপটি ৩৬০১ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। সফল টেস্ট অ্যান্ড কমপ্লিশন শেষে গতকাল থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে প্রবেশ করল।

বর্তমানে বিজিএফসিএল দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং সার্বিক সরবরাহের ১৮ শতাংশ জোগান দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ৬টি গ্যাস ফিল্ডের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় মূল ভূমিকা রাখছে। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে বেশ কিছু নতুন কূপ খনন ও বন্ধ কূপ সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিদিন শত মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে নতুন নতুন গ্যাস ফিল্ড অনুসন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় ৩-ডি ও ২-ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।