দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

খুবি সাংবাদিককে তলবি চিঠি, প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমিতির নিন্দা

19

খুলনা :
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষার্থী-সাংবাদিককে তলবি চিঠি দিয়ে সংবাদে ব্যবহৃত তথ্যসূত্র, অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস)।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মো. মিরাজুল ইসলামকে গত ১০ জুন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংবাদের তথ্যসূত্র, লিখিত ব্যাখ্যা এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ড জমা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

খুবিসাসের দাবি, প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক বরাবর প্রতিবাদপত্র পাঠানোই প্রচলিত নিয়ম। একজন ক্যাম্পাস প্রতিনিধির কাছে সরাসরি তথ্যসূত্র ও রেকর্ড তলব করা এবং শাস্তির হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে খুবিতে বৃক্ষরোপণ’ শীর্ষক সংবাদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই বক্তব্যকে ‘বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করলেও প্রতিবেদকের কাছে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের অডিও রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানানো হয়।

খুবিসাস আরও বলে, সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সাংবাদিক তার তথ্যসূত্র বা সংগৃহীত অডিও রেকর্ড প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বাধ্য নন। একজন শিক্ষার্থী-সাংবাদিককে প্রশাসনিক ক্ষমতার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা ক্যাম্পাসে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া চিঠি প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিমূলক ভাষা বাতিলের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।