কেশবপুর :
যশোরের কেশবপুরে এক শিক্ষকের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে চুরির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার ২ নম্বর সাগরদাঁড়ী গ্রামের মাস্টার আব্দুস সাত্তারের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশের পর চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে। পরে আলমারি ভেঙে মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর গৃহকর্তা মাস্টার আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তাঁরা সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, চুরির পর পাশের একটি আমবাগানে খালি গহনার প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা সেখানে প্যাকেটগুলো ফেলে যায়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি একই ধরনের কৌশলে বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। গভীর রাতে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শামীম হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছে এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
মেয়ের বিয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করে রাখা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হারিয়ে পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতার বিষয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।