দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুর এতিমখানায় গ্রিল না লাগিয়েই অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

21

কেশবপুর :

যশোরের কেশবপুর বাহরুল উলুম কামিল মাদরাসার আওতাধীন এতিমখানার নতুন ভবন ও রান্নাঘরে গ্রিল লাগানোর জন্য অর্থ নেওয়া হলেও কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক মো. ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে এতিমখানার ভবন নির্মাণের পর চারটি জানালায় গ্রিল লাগানোর জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং রান্নাঘরে গ্রিল লাগানোর কথা বলে আরও ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত দুটি ভাউচারের তারিখ যথাক্রমে ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ও ৩০ জানুয়ারি ২০২৪। কেশবপুর পৌর শহরের বিসমিল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. আব্দুল মালেকের নামে থাকা ভাউচার জমা দিয়ে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও ভবনে এখনো গ্রিল লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া এতিমখানা ও রান্নাঘরে মোট ৯২০ কেজি গ্রিল লাগানো হয়েছে দেখিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার আরেকটি ভাউচারও প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কাজ না করেও ওই হিসাবে আরও ৩০ হাজার টাকা পাওনা দেখানো হয়েছে।

এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক মো. বুহল আমিন বলেন, “অধ্যক্ষ মো. ফসিয়ার রহমান নতুন ভবনের জানালা ও রান্নাঘরে গ্রিল লাগানোর কথা বলে দুই-তিন বছর আগে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনো গ্রিল লাগানো হয়নি। এছাড়া অনুদানের ধান বিক্রির ১০ হাজার ৫০ টাকাও তিনি নিয়েছেন, যা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।”

এদিকে, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ এতিমখানায় দান হিসেবে পাওয়া ধান বিক্রির ১০ হাজার ৫০ টাকা নেওয়ার একটি রশিদেও অধ্যক্ষের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ভবনে গ্রিল না থাকায় নতুন এতিমখানা ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাদের দাবি, এতিমদের জন্য বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক মো. ফসিয়ার রহমান বলেন, “দুই-তিন বছর আগে এতিমখানার শিক্ষার্থীদের হলরুমে গ্রিল লাগানোর কথা বলে তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। সেখানে গ্রিল লাগানো হয়নি। বর্তমান কমিটির সভাপতি মিটিং ডেকে টাকা ফেরত চাইলে আমি টাকা ফেরত দেব।”

এতিমখানার সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস বলেন, “২০২৩-২৪ সালে আমি ওই এতিমখানার সভাপতি ছিলাম না। ওই সময়ের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।”

স্থানীয়দের দাবি, এতিমখানাটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।