সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাজুকে দাফন করা হয়।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাজুর মরদেহ বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বেলা ৩টার দিকে সাজুর মরদেহবাহী গাড়ি বরেয়া গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষ তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সাজুকে শেষবারের মতো দেখতে আসা মানুষের চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছাপ। স্থানীয়রা জানান, সাজু ছিলেন সদালাপী, সৎ ও সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বৃষ্টি কিছুটা কমার পর আসরের নামাজ শেষে বাড়ির পাশের মসজিদ প্রাঙ্গণে সাজুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান, তাঁর বাবা আবুল কাশেম গাজী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য অংশ নেন। জানাজায় স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তাফিজুর রহমানের বাবা আবুল কাশেম গাজী জানান, সাজুর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের টানেই তাঁরা সাজুর শেষ বিদায়ে উপস্থিত হয়েছেন।
জানাজা শেষে স্বজন ও এলাকাবাসীর শোকের মধ্য দিয়ে সাজুর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের অনুরোধে কলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে।