দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কপোতাক্ষ নদে বহুদিন পরে তালায় নোঙর করলো মালবাহী কারগো।

39

এম এম জামান মনি পাটকেলঘাটা থেকে :দীর্ঘদিন নাব্যতা সংকটে মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদে বহুদিন পর দেখা মিলেছে একটি বিশাল মালবাহী কারগোর। জানাগেছে,সিলেটের সুরমা নদী থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট পাথর বহন করে দশ দিনের দীর্ঘ যাত্রা শেষে কারগোটি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাঝিয়ারা মোড়ের কপোতাক্ষ নদের পাড়ে এসে নোঙর করে। বর্তমানে সেখানে নদের পাড়ে পাথরগুলো আনলোড করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এসব পাথর নদী সংস্কারের বোলাক ও তীর সংরক্ষণ কাজে ব্যবহার করা হবে।

 

ঐতিহ্যের কপোতাক্ষ নদ হারাচ্ছে অস্তিত্ব:একসময় কপোতাক্ষ নদ ছিল দক্ষিণ–পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান নৌপথ। এই নদীর বুক চিরে চলতো জাহাজ, লঞ্চ ও স্টিমার। বাণিজ্য, কৃষি, পরিবহন—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই নদী।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় পলি জমে নদের প্রস্থ কমে আসতে আসতে আজ সংকুচিত ধারা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। বারবার খনন হলেও নাব্যতার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কারগো দেখে নদের পাড়ে মানুষের ভিড়:মাঝিয়াড়া মোড়ে কারগো পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের মানুষ নদের তীরে ভিড় জমায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন—
“কপোতাক্ষে এভাবে বড় নৌযান বহু বছর দেখিনি। মনে হলো পুরোনো দিনের কপোতাক্ষ আবার ফিরে এসেছে।”

খনন হলেও টেকেনি নদের প্রাণ

নদেরপাড়ের মানুষের অভিযোগ—
“বিগত সময়ে কপোতাক্ষ নদ বারবার খনন হলেও যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে নাব্যতা ধরে রাখা যায়নি। ফলে কিছুদিন পরই নদের আবার ভরাট হয়ে পড়ে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সুরমা থেকে আনা পাথরগুলো দিয়ে বোলাক নির্মাণ, নদীতীর রক্ষা এবং নদীর স্থায়ী প্রবাহ নিশ্চিত করার কাজ করা হবে।
তাদের মতে—
“এই প্রকল্প সফল হলে কপোতাক্ষ আবার তার ঐতিহ্য ফিরে পেতে শুরু করবে।”

মানুষের চোখে নতুন সম্ভাবনা:

তালা উপজেলার মাঝিয়ারা, কুমিরা, খলিলনগরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ সাংবাদিক দের জানিয়েছে,
“কপোতাক্ষের সংস্কার সফল হলে কৃষি, বাণিজ্য ও জনজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।”