হারুনার রশীদ বুলবুল কেশবপুর :বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ ২৫ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে কবির জন্মভূমিতে একদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যশোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মাদ আশেক হাসান সভাপতিত্ব করবেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন।
মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীতে কবির স্মৃতি ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কেক কাটা, আলোচনা সভা, প্রবন্ধ উপস্থাপন, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং স্মারক গ্রন্থ ‘সনেট’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জন্ম ও সাহিত্যকীর্তি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত জন্মগ্রহণ করেন ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের জমিদার দত্ত পরিবারে। তাঁর পিতা রাজ নারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবী। শৈশবে তিনি বাংলা ও ফারসি ভাষায় শিক্ষালাভ করেন এবং পরে কলকাতায় গিয়ে বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা’, ‘বীরাঙ্গনা’, ‘তিলোত্তমাসম্ভব’, ‘পদ্মাবতী’, ‘কৃষ্ণকুমারী’সহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। ১৮৭৩ সালের ১৯ জুন কলকাতায় তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।মধুমেলা না হলেও উৎসবের আমেজপ্রতিবছর কবির জন্মবার্ষিকীতে সাগরদাঁড়িতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুপল্লীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন,মাইকেল মধুসূদন দত্ত শুধু যশোর নয়, পুরো জাতির গর্ব। তাঁর সাহিত্য আজও আমাদের চিন্তা ও মননকে আলোকিত করে। সীমিত আয়োজন হলেও আমরা চাই নতুন প্রজন্ম তাঁর জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে জানুক এবং অনুপ্রাণিত হোক।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, নির্বাচনজনিত কারণে এবার মধুমেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তা মহাকবির প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা হবে।
মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও গবেষক খসরু পারভেজ বলেন, স্বল্প পরিসরের আয়োজন হলেও এবার শিশুদের নিয়ে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মধুসূদন চর্চা আরও বিস্তৃত হবে।মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানুজ্জামান বলেন,এবার মধুমেলা না হলেও মহাকবির জন্মদিন ঘিরে মধুপল্লী সাজানো হয়েছে। মধুভক্তরা আজ শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন।
কপোতাক্ষ নদের পাড়, কবির স্মৃতিবিজড়িত কাছারিবাড়ি, আম্রকানন ও বিদায়ঘাট ঘুরে দেখতে আজ ভিড় করবেন সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা।