মোংলা প্রতিনিধি :গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালীর ভয়ে থানায় এজাহার দাখিলে বিলম্ব ভুক্তভোগীর। এজাহারের আংশিক প্রমাণ মিলেছে, তবে পুরো তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
থানায় দাখিলকৃত এজাহারের বিবরণে জানা যায়, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বৈদ্যমারী এলাকার বাসিন্দা লাইজু খানম ময়না (২৫) কে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছে একই ইউনিয়নের গোড়া বাঁশতলা গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হাওলাদার (৪২)। কিছুদিন আগে ময়নার ডিভোর্স হওয়ার পর ফারুকের উত্যক্তাও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বৈদ্যমারী বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ময়নাকে নির্জনে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ফারুক। এরপর আবার ২২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ময়নার ঘরে ঢুকে তাকে ময়নাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ফারুক। এনিয়ে ময়নাকে বাড়াবাড়ি না করারও হুমকিধামকি দিতে থাকে ফারুক। পূর্বের ধারাবাহিকতায় গত ৩ জানুয়ারী ময়নাকে একটি চিংড়ি ঘেরে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ফারুক। ময়না যেতে না চাইলে তাকে মারধর করে জখম করে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর সুস্থ হয়ে ফিরে এসে এ ঘটনায় ১২ জানুয়ারী থানায় এজাহার দাখিল করে ময়না।
অভিযুক্ত ফারুক হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মোংলার চটেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ময়নাকে মারধরের বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকী বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, এজাহার পাওয়ার পর তদন্ত ভার এসআই রফিককে দেয়া হয়েছে। তার তদন্ত সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।