দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

খুবিতে ‘এমপাওয়ারিং এডুকেটর্স থ্রু ডিজিটাল নলেজ এনহ্যান্সমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা

32

খুলনা :

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এমপাওয়ারিং এডুকেটর্স থ্রু ডিজিটাল নলেজ এনহ্যান্সমেন্ট আন্ডার দ্য হিট প্রজেক্ট’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের উদ্যোগে এবং বিডিরেনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) হিট প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।

উপাচার্য বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো আমাদের গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক আগে থেকেই ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল প্রশাসনের আওতায় ডিজিটাল হাজিরা ও ডি-নথি, স্মার্ট ল্যাব এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সফট স্কিল ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ইন্টার্নশিপ চালু, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টি, ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার চালু এবং ইন্ডাস্ট্রি লিয়াজোঁ অফিস প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তিই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এর কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কেও জানতে হবে। প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হলে বিদ্যমান রিসোর্সগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বিডিরেনের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে আরও জানা প্রয়োজন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ বিষয়ে আগ্রহী। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পেনশন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ আলমগীর হোসেন।

কর্মশালায় হিট প্রকল্পের পরিধি এবং বিডিরেনের বিভিন্ন সেবা নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিডিরেনের জেনারেল ম্যানেজার (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) খ. রাশেদুল আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিডিরেনের ম্যানেজার (সেলস) বিপ্লব চন্দ্র মাহান্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মশালার টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস’ বিষয়ে দুটি সেশন পরিচালনা করেন হিট প্রকল্পের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম খান এবং বিডিরেনের মো. আরিফুল ইসলাম আরমান।

পরে ‘জেনারেটিভ এআই ফর টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন খ. রাশেদুল আরেফিন ও আবু নাসের মো. নাফেউ। ‘ই-জার্নাল অ্যান্ড প্ল্যাগারিজম’ বিষয়ে আলোচনা করেন বিডিরেনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (নলেজ অ্যান্ড রিসার্চ) আহমেদ আল হোসাইন। এছাড়া ‘এআই অ্যাপ্লিকেশন ইন হায়ার এডুকেশন’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন আবু নাসের মো. নাফেউ।

কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধানসহ প্রায় ৬০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় শিক্ষা ও গবেষণায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল সেবার কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।