দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

শার্শায় মাছের মড়কে নিঃস্ব দুই উদ্যোক্তা, ক্ষতির দাবি ১৫ কোটি টাকা

35

যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর সোনামুখো বিলের একটি মাছের ঘেরে ভয়াবহ মড়ক দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানিতে অক্সিজেনের সংকট সৃষ্টি হয়ে পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘের মালিকরা। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

ঘের মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই ঘেরে মাছ মারা যেতে শুরু করে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা আরও কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যায় বলে দাবি করেন তারা।

এএফ মৎস্য খামারটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাদের দাবি, ঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছিল। এর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছিল। তবে আকস্মিক এ বিপর্যয়ে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ঘের মালিক ফারুক হোসেন ও আলফাজুল হক বলেন, মাছ চাষের জন্য বাজারের বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার মাছের খাদ্য বাকিতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক থেকেও ঋণ নেওয়া হয়েছে। মাছ মারা যাওয়ায় এসব ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তারা বলেন, “আমরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছি। এত বড় ক্ষতি কীভাবে সামাল দেব, তা বুঝতে পারছি না।”

ঘের মালিকরা আরও জানান, এ খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল। মাছের মড়কের ঘটনায় শুধু দুই উদ্যোক্তাই নন, খামারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব পরিবারের আয়-রোজগারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হতো। ফলে এ ধরনের মাছ চাষ স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখছিল।

এদিকে ঘের মালিকদের অভিযোগ, মাছ মারা যাওয়ার পরও শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা থানা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।

ঘের মালিকদের দাবি, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করে তাদের পাশে দাঁড়ানো না হলে বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত দুই উদ্যোক্তা এবং খামারের ওপর নির্ভরশীল প্রায় একশ পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।