দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

এক যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, কাদামাটির রাস্তায় চরম দুর্ভোগ শিক্ষার্থীসহ শতাধিক পরিবারের

26

 কয়রা :

খুলনার কয়রা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি পুকুরপাড়সংলগ্ন একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি যেন উন্নয়নের বাইরে পড়ে থাকা এক জনপদের চিত্র। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও রাস্তাটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটি পরিণত হয় কাদামাটির পথে। এতে শিক্ষার্থীসহ শতাধিক পরিবারের মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রাস্তাটির দুই পাশে বসবাস করেন শতাধিক পরিবার। প্রতিদিন এই কাদা মাড়িয়েই কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যেতে হয়। শুধু শিশুরাই নয়, বয়োবৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ মানুষদেরও চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনও এই পথকে ঘিরেই। কৃষকের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া, নারীদের সরকারি পুকুর থেকে পানি সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে হয় জরাজীর্ণ এই কাঁচা রাস্তা। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তার পাশেই রয়েছে কয়রা সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের বৃষ্টির সময় কাদামাটির রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদ বা এলজিইডির মাধ্যমে রাস্তাটি ইটের সলিং করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তাটি কাঁচা। বছরের পর বছর এভাবেই চলাচল করতে হচ্ছে আমাদের। বৃষ্টির দিনে শিশুদের স্কুলে যেতে জামা-কাপড় ও জুতা কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় স্কুলে যেতেও সমস্যা হয়।”

নাজমা খাতুন বলেন, “প্রতিদিন গৃহস্থালির কাজের জন্য সরকারি পুকুরে পানি নিতে যেতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নারী ও বয়স্কদের চলাচল খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, দ্রুত রাস্তাটি ইট দিয়ে পাকা করা হোক।”

কয়রা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, “প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের এক অর্থবছরের বরাদ্দ দিয়ে পুরোপুরি সংস্কার করা সম্ভব নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যে বরাদ্দ পেয়েছি, তা দিয়ে প্রায় ৬ চেইন রাস্তা পাকা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে আগে এই রাস্তাটিই পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে যে বরাদ্দ পেয়েছিলাম, তা দিয়ে ওই রাস্তার এক মাথা থেকে কিছু অংশে কাজ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাটির বাকি অংশের কাজ করা হবে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন—উন্নয়নের যুগে এক যুগ ধরে একটি রাস্তা কেন এমনই পড়ে থাকবে? তাদের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে স্থায়ীভাবে চলাচলের উপযোগী করা হলে শিক্ষার্থীসহ শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।