পাইকগাছা :
খুলনার পাইকগাছায় সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা ও পাকা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্যের পরিবারকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় তারা বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে হয়রানির চেষ্টা করছেন।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “উলুবুনিয়া নদীর পাশ দিয়ে ইউপি সদস্যসহ অনেক পরিবার বসবাস করছে। জায়গাটি নদীর সীমানার মধ্যে পড়েছে কি না, তা পরিমাপ ছাড়া এই মুহূর্তে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।”
জানা গেছে, উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুটিমারীতে উলুবুনিয়া নদীসংলগ্ন ৪২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ১৭৪ বিঘা সরকারি ভিপি সম্পত্তি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ডিসিআর (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের মাধ্যমে বন্দোবস্ত) সূত্রে এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইটের রাস্তার পাশে ভিপি জমির শেষ প্রান্তে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন জমির গাজী, কৃষ্ণপদ মণ্ডল, মিনারুল ফকির, আব্দুল জলিল, গোপাল (আন্না), রুহুল আমীন গাজীসহ প্রায় ১২টি পরিবার। অন্যদিকে উলুবুনিয়া নদীর ভরাট অংশে সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘরবাড়ি রয়েছে। এছাড়া শামুকপোতা বাজারে আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে প্রায় ২০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, উলুবুনিয়া নদীর দুই পাশ ও ভিপি জমির প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বহু পরিবার বসবাস করছে। এ নিয়ে এতদিন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেনি। সম্প্রতি পূর্বশত্রুতার জেরে লতা ইউপি সদস্য কুমারেশ মণ্ডল ও তার ভাই ব্যবসায়ী প্রশান্ত মণ্ডলকে জড়িয়ে নদী ও সরকারি ভিপি জমি দখল করে বাড়িঘর এবং মাছের ডিপো নির্মাণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভিপি ডিসিআর হোল্ডার হরিঢালীর রনজিৎ কুমার দে, আকু মেম্বার ও পৌরসভার বাসিন্দা মিরাজুর ইসলাম মিরাজ বলেন, “এটি নদীর জায়গা নয়। ইউপি সদস্য কুমারেশ মণ্ডলসহ একাধিক পরিবার ভিপি জমির শেষ প্রান্তে বসবাস করছেন। তাদের বসবাসে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তাহলে অন্যরা বিষয়টি নিয়ে কেন পীড়াপীড়ি করছেন, তাদের স্বার্থ কী—এটাই প্রশ্ন।”
ইউপি সদস্য কুমারেশ মণ্ডল ও রুহুল আমীন গাজী অভিযোগ করে বলেন, বিদেশপ্রবাসী সুদীপ্ত নামে এক ব্যক্তি ডিসিআর-এর জমি বুঝে না পেয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সরকারি জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
তবে জমিটির প্রকৃত সীমানা ও নদীর জায়গা নির্ধারণে সরকারি জরিপ ও পরিমাপের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিমাপের পরই জমিটি নদীর সীমানার মধ্যে রয়েছে কি না এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।