দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

২ আগস্ট জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী পিসি রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী

22

পাইকগাছা :

জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র (পিসি) রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২ আগস্ট (রোববার) খুলনার পাইকগাছায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণসহ চার দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে স্যার পি. সি. রায় স্মৃতি সংসদ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন।

অন্যদিকে, শনিবার (১ আগস্ট) স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন স্যার পি. সি. রায় স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। তিনি ছিলেন রসায়নের মৌলিক গবেষক, সফল আবিষ্কারক, আদর্শ শিক্ষক, শিল্পোদ্যোক্তা, সাহিত্যিক ও মানবহিতৈষী। ১৮৯৫ সালে মারকিউরাস নাইট্রাইটসহ একাধিক রাসায়নিক যৌগ আবিষ্কার করে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯০১ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি নিজ গ্রাম রাড়ুলীতে সমবায় ব্যাংক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় শুধু একজন বিজ্ঞানীই নন, তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক ও সমাজসংস্কারক। শিল্পায়ন, কৃষি, শিক্ষা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান বিষয়ে তাঁর চিন্তাধারা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর অবদানকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—পাইকগাছায় নির্মাণাধীন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নাম ‘বিজ্ঞানী পি. সি. রায় কৃষি ইনস্টিটিউট’ রাখা, রাড়ুলীতে তাঁর ঐতিহাসিক বসতভিটা সংরক্ষণ করে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করা, তাঁর জীবন ও কর্ম পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাঁর বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নীত ও জাতীয়করণ করা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্ম আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে পারবে এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন স্যার পি. সি. রায় স্মৃতি সংসদের সভাপতি ডা. মুহাম্মদ কওসার আলী গাজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর অশোক কুমার ঘোষ, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এ. কে. এম. গোলাম আযম, সহ-সভাপতি কৃষিবিজ্ঞানী ড. মো. হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল আলম সরদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা সাঈদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা বুলবুল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালেক, পৌর আমির ডা. আসাদুল হক, অ্যাডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, মাস্টার আনিছুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র (পিসি) রায় ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন পরলোকগমন করেন।