দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েও পদক মেলেনি, উপেক্ষিত ২০২৫-এর দুই দেশসেরা শিক্ষার্থী

28

পাটকেলঘাটা :

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের গৌরব অর্জন করেও এখনো সরকারি স্বীকৃতি, পদক, সনদপত্র ও প্রাইজমানি পাননি সাতক্ষীরার দুই কৃতি শিক্ষার্থী। এদিকে ২০২৬ সালের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ সম্পন্ন হলেও ২০২৫ সালের দেশসেরা শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।

জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৫’ প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কন বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১২৭ নম্বর পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহিয়া সুলতানা (তাহা)। একই প্রতিযোগিতার অপর একটি বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ৩৩ নম্বর তালা বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাধুর্য দাশ।

কৃতি শিক্ষার্থী তাহিয়া সুলতানা তার আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছে, জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার পর সে আশা করেছিল দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পদক ও সম্মাননা গ্রহণ করবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো পদক, সনদপত্র কিংবা প্রাইজমানি হাতে পায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ বিতরণ করা হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান না করেই নতুন বছরের পদক বিতরণ করায় তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন।

তাহিয়া সুলতানার অভিভাবক মো. শাহাবুদ্দীন মোড়ল বলেন, “আমাদের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাইনি। জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়েও যদি শিশুরা তাদের প্রাপ্য সম্মান না পায়, তাহলে তাদের মানসিকভাবে নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

পাটকেলঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অলিউল ইসলাম বলেন, “তাহিয়া সুলতানা (তাহা) জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েও এখনো তার প্রাপ্য সম্মাননা না পাওয়ায় হতাশ। সরকারের কাছে দ্রুত ২০২৫ সালের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

এদিকে বিষয়টির সুরাহা চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (সাতক্ষীরা-১) এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ও আবেদনপত্র দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

তাদের দাবি, দ্রুত ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৫’-এর পদক, সনদপত্র ও প্রাইজমানি প্রদান করে দুই কৃতি শিক্ষার্থীর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী এ ধরনের অবমূল্যায়নের শিকার না হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজা স্বর্ণা বলেন, “এ বিষয়ে আমার করার কিছু নেই।”