দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ, শুল্ক বৃদ্ধিতে বিপাকে আমদানিকারকরা

31

শার্শা :

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাছ আমদানির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক আমদানিকারক প্রথম দিন থেকেই মাছ আমদানি স্থগিত রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মাছ আমদানির মোট শুল্কহার ৪৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। এতে বাজারে মাছের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা এ সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আগে স্বাদুপানির মাছ আমদানিতে প্রতি কেজিতে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা শুল্ক দিতে হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৬ টাকা অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ ও রুই মাছের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে শুল্ক ৪৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে, যা প্রায় ২৪ টাকা বেশি। বাজেট ঘোষণার পরদিন থেকেই নতুন হারে শুল্ক আদায় শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মাছ আমদানিকারকদের দাবি, দেশে ভারতীয় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ফলে নতুন বাজেট কার্যকরের পর থেকেই মাছ আমদানি কমে গেছে। এতে ব্যবসা ও সরকারের রাজস্ব আদায়—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুল্ক পুনর্বিবেচনা না করা হলে আমদানি আরও কমে যাবে এবং এর প্রভাব বাজার, ব্যবসা ও রাজস্ব আদায়ে পড়বে।

বন্দর শ্রমিকরা জানান, মাছ আমদানি কমে যাওয়ায় পণ্য খালাসের কাজও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে বন্দরে অপেক্ষা করেও মাছবাহী কোনো ট্রাক খালাস করতে পারেননি তারা। এতে আয় কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একইভাবে ট্রাকচালকরাও মাছ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ট্রাকে থাকা পণ্যের ওজনের পরিবর্তে চাকার সংখ্যার ভিত্তিতে কাস্টমস শুল্ক নির্ধারণের পর থেকেই মাছ আমদানি কমতে শুরু করেছে। নতুন করে শুল্ক বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আস-ওয়াদুল ইসলাম বলেন, বাজেট ঘোষণার আগে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মাছ আমদানি হলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মুক্তা চৌধুরী বলেন, “আমদানিকৃত মাছের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে আমদানিকারকরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে গত অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস দিয়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭ টন স্বাদুপানির মাছ এবং ৭ হাজার ৪৮১ টন সামুদ্রিক মাছ আমদানি হয়েছিল। নতুন বাজেট কার্যকরের পর এখন পর্যন্ত ৩৮৬ টন স্বাদুপানির মাছ এবং ১৯৪ টন সামুদ্রিক মাছ আমদানি হয়েছে।”