দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ফকিরহাটে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

28
ফকিরহাট :

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মো. মোস্তফা শেখ-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী হয়রানি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঘরশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম রসুল

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, মোস্তফা শেখ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। গত ৯ জুন ২০২৬ রাত ১১টার দিকে তিনি শুভদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক নারীকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করেন। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগে ১ নম্বর ওয়ার্ডের এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের অপর এক গ্রাম পুলিশের বোনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে তাকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

বক্তারা দাবি করেন, অতীতেও অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপরও তিনি নিজেকে ‘লাইসেন্সধারী সরকারি মাস্তান’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে জুয়ার আসর পরিচালনা, মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ভিজিপি কার্ড করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রাম পুলিশের জেলা সভাপতি হওয়ার প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে নারী সমাজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর যৌথ স্বাক্ষরিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ফকিরহাট মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে চাকরি থেকে অপসারণের দাবি জানান এলাকাবাসী।