দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

মোংলায় চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপি নেতা ও নারীসহ আহত ৩, ঘরবাড়ী ভাংচুর এবং লুটপাট

72

মোংলা প্রতিনিধি :মোংলায় চাঁদা না দেয়ায় বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে বেদম মারপিট করে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের উলুবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাগরের মাছ ব্যবসায়ী রাজ্জাক শেখের (৫২) কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অংকের চাঁদা নিয়ে আসছিলো একই এলাকার প্রভাবশালী কামরুল শেখ ও মোশারেফ শেখ গং। তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন সময় রাজ্জাকের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। সর্বশেষ কিছুদিন আগে সাগর থেকে ব্যবসা শেষে বাড়ীতে আসে রাজ্জাক। এরপর থেকে তার কাছে একের পর চাঁদা দাবী করে আসছে কামরুল শেখ, মোশারেফ শেখ, রফিকুল শেখ, তারিকুল শেখ, রিপন শেখ জাহাঙ্গীর শেখ, মোয়াজ্জেম শেখ, ইব্রাহিম শেখ, বায়জিদ শেখ, মজিদ, শাকিব শেখ, মোশারেফ গাজী ও আঃ রহমান শেখ। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে চাঁদার দাবীতে রবিবার সকালে উলুবুনিয়া এলাকার চেয়ারম্যানের মোড়ে রাজ্জাকের গতিরোধ করে। এ সময় তার সাথে থাকা স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জাহিদ শেখ প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারপিট করে কামরুল ও মাশারেফ গং। তখন জাহিদ শেখের কাছে ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য মাজায় থাকা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। পরে ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। সে সময় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর চাঁদার দাবীতে সোমবার সকালে আবারো উলুবুনিয়া খেয়াঘটে ফেলে রাজ্জাককে মারপিট করে কাছে ব্যবসার জন্য থাকা ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় কামরুল ও মোশারেফ গং। রাজ্জাককে মারপিটের খবর শুনে তার বড় বোন শরীফা বেগম ছুটে এলে তাকেও মারধর করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা শরীফার কানের দুলও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা রাজ্জাকের বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

আহত বিএনপি নেতা জাহিদ শেখ বলেন, অহেতুকভাবে মাছ ব্যবসায়ী রাজ্জাকের কাছে চাঁদা দাবী করে আসছে কামরুল ও মোশারেফ গং। আমি তাতে প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মারপিট করে। আমি আমার দলসহ প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।

মাছ ব্যবসায়ী রাজ্জাক শেখ বলেন, আমি সাগরে মাছের ব্যবসা করি, মোটামুটি ভাল টাকা আয় করি। তাই কামরুল ও মোশারেফ গংকে দফায় দফায় চাঁদা দিতে হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। নতুন করে তারা আবার চাঁদা চাইলে আমি দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে ও আমার বোনকে মারপিট করে আহত করেছে। তারা আমার বাড়ীঘর ভাংচুর করে লুটপাট চালিয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার ও নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চাই৷

মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। #