মোংলা প্রতিনিধি:মোংলায় প্রকাশ্যে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের উপর নৃশংসভাবে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মারপিট এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। গত ৮ মে রাতে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ওই ভুক্তভোগী শিক্ষক মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (৪৭) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি মোংলা পৌর শহরের ইসলামপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় মালগাজী কোরবান আলী দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক। ঘটনার পরের দিন ৯ মে ভুক্তভোগী শিক্ষক বাদী হয়ে মোংলা থানায় নির্দিষ্ট নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু অভিযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা রেকর্ড করা হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে দক্ষিণ মালগাজী এলাকার খালিদ মাহমুদ সোহাগ (৪৫) জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষকের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ৮ মে রাত ৮টার দিকে শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম স্থানীয় রশিদ তালুকদারের চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে সন্ত্রাসীরা তার পথরোধ করে। পরে সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। কিল-ঘুষি ও লাঠির আঘাতে তার মাথা, বুক এবং পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর জখম হয়। একপর্যায়ে খালিদ মাহমুদ সোহাগ ওই শিক্ষকের পাঞ্জাবির পকেট থেকে জোরপূর্বক নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলে যে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাবিকৃত বাকি টাকা পরিশোধ না করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আহত শিক্ষকের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আহত মাদ্রসা শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমি একজন শিক্ষক। স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এখন আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এদিকে হামলা, মারধর ও চাঁদাবাজির বিষয়ে নিজের সম্পৃক্তার কথা অস্বীকার করে অভিযুক্ত খালিদ মাহমুদ সোহাগ বলেন, ওই শিক্ষক তার প্রতিবেশীর কিছু জায়গা জবর দখল করে রেখেছেন। ভুক্তভোগী এ ব্যাপারে তাকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করে। এ কারণে জায়গা দখলের বিষয়টি জিজ্ঞাস করলে ওই শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে তার উপর চড়াও হয়। এ সময় কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনা এতটুকু। এনিয়ে সে এখন নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই বিষয়ে পুলিশের মোংলা-রামপাল সার্কেলের এএসপি মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, থানায় জমা দেয়া অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। থানার ওসিকে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।