মোংলা প্রতিনিধি ;রমজানের প্রথমদিনে মোংলার পৌর শহরের কয়েকটি দোকানে অভিযান চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ। এ সময় ৫ দোকানীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যৎসামান্য এ জরিমানায় স্থানীয়দের মাঝে একদিকে হাস্যরস অপরদিকে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও এ অভিযান চালানো হয় জেলা প্রশাসকের দেয়া তথ্য ও নির্দেশনায়। রমজান শুরু আগে বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মোংলায় স্থানীয় প্রশাসনের কোন ভূমিকাই দেখা যায়নি। রমজানের শুরুতে দ্রব্যমুল্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সর্তকতামূলক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকে লোক দেখানো বলছে স্থানীয়রা।
পৌর শহরের বাসিন্দারা বলেন, ৫ দোকানে ৬ হাজার টাকা জরিমানা। এটা মস্কারা ছাড়া আর কি। এটা কোন জরিমানা হলো, জরিমানার নাম করে তাদের অভিযানকে হালাল করা হচ্ছে। কাগজকলমে অভিযান দেখাতে হবে তাই দেখাচ্ছে তারা। এতে তো ক্রেতারা কোনভাবে উপকৃত হচ্ছেনা। জরিমানার পরক্ষণেই দোকানীরা নানা কৌশলে তাদের দন্ডকৃত টাকা আবারো ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছেন।
তারা আরো বলেন, এক-দুই দোকানে নয়, প্রকারভেদে দোকানগুলোতে অভিযান চালানো জরুরী। এবং অধিক হারে জরিমানা করা উচিৎ, যাতে পুনরায় এমন কাজ করতে গেলে তাদের অন্তর কেঁপে ওঠে। তাহলেই ক্রেতারা উপকৃত হবে।
ক্রেতারা বলেন, রোজার আগে বেগুন ছিল ৩০ টাকা আর এখন ৮০টাকা, দ্বিগুণের বেশি। ২/৪ টাকা দাম বাড়তে পারে, তবে এতো কেন। রোজার আগের ৭শ টাকা কেজির খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৩শ টাকায়। সকল ফল, সবজি, মাছসহ মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে বেসামালভাবে।
অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নওসীনা আরিফ জানান, মোংলা শহরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কলার আড়ৎসহ ৫ দোকানীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই জরিমানা কোন ধারায় করা হয়েছে, সেই ধারায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে, যেটি জরিমানা করা হয়েছে সেটি সর্বোচ্চ নাকি সর্বনিম্ন। সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার আইন দেখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, জেলা প্রশাসকের দেয়া তথ্যানুযায়ী শহরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।