দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সাতক্ষীরায় শিশু-নারীর সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বয় সভা

18

সাতক্ষীরা :

সাইবার স্পেসে শিশু, যুব ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানি ও মানসিক সহিংসতা প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় অংশীজনদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স’-এর আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারিগরি সহায়তা দেয় ‘টেরে ডেস হোমস্ নেদারল্যান্ডস’ এবং অর্থায়ন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সভায় উপস্থাপিত এনসিবিআইয়ের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, শিশু-কিশোর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮৮ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে অনলাইন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ শিশু অনলাইন যৌন হয়রানির শিকার এবং একই হারে শিশু অনলাইন গ্রুমিংয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ৩৮ শতাংশ শিশু সাইবার ফ্ল্যাশিং এবং ১৮ শতাংশ কিশোর-কিশোরী ছবি বা ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে যৌন ব্ল্যাকমেইল বা সেক্সটর্শনের শিকার হচ্ছে।

সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তির তুলনায় পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমেই শিশুরা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ঝুঁকিতে বেশি পড়ছে। ফলে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের পরিচালক (পরিকল্পনা ও কর্মসূচি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মো. হুসাইন শাওকত।

ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের ম্যানেজার (প্রোগ্রাম) ও ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব কুমার দাস, সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবীর, সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আখতারুজ্জামান, সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক রাসেল কামরুজ্জামান, সনাকের সভাপতি তৈয়ব হাসান বাবু, নারী নেত্রী ফরিদা আখতার বিউটি, সাংবাদিক এম কামরুজ্জামান ও গোলাম সরোয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা।

বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সুশীল সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং গুগল সেফসার্চ ব্যবহারের মতো প্রযুক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

সভায় ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা, শিশু আইন ২০১৩, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং টিডিএইচ নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স সাতক্ষীরা সদরে ‘স্পিক আপ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।