দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

সতর্কতার পরও নেয়া হয়নি ব্যবস্থা, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে শাহজালালের কার্গো ভিলেজে

22

বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে আগেই বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কতা আমলে নেয়া হয়নি। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগে। লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় বিপুল পরিমাণ মালামাল।

 

ঘটনার পর কার্গো ভবনের বেশ কিছু নথির তথ্য এসেছে সময় সংবাদের হাতে। নথি অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে পুরোনো বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বেবিচকের প্রকৌশল বিভাগে চিঠি দেয় বাংলাদেশ বিমান। একই স্মারকের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মে মাসেও পুনরায় সতর্কতামূলক চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠিতে বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।

 
অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিসসহ কয়েকটি সংস্থা তদন্ত করে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাতের কথা বলা হয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, ‘আগুনটি নেভাতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। আমাদের তদন্তে আমরা দেখতে পাই, শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’
 
আগেই সতর্ক করার পরও কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এটি স্রেফ গাফিলতি, নাকি পরিকল্পিত অবহেলা; তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সতর্কতামূলক চিঠি পাওয়ার পর বেবিচক কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা জানতে সংস্থাটির প্রকৌশল দফতরে যায় সময় সংবাদ।
 
তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। উল্টো জানানো হয়, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে এ বিষয়ে কথা বলা নিষেধ। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দফতরে গিয়েও সংস্থার প্রধানের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি।
 
পরে বেবিচকের নির্দেশনায় লিখিতভাবে প্রশ্ন দেয়া হলে একজন প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে তিনিও কোনো উত্তর দেননি। যদিও বেবিচক সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খানের প্রশ্ন, এতদিন পর কেন বিষয়টি নিয়ে ফলোআপ করা হচ্ছে?
 
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ আগুনটা নিয়ে আপনারা নিউজ করছেন কেন? ফলোআপ তো আগের একটা হচ্ছে ইনকোয়ারি ফলোআপ, আরেকটা হচ্ছে নেক্সট এখন কী হচ্ছে, সেটা হচ্ছে ফলোআপ।’
 
তবে স্বীকার করুক বা না করুক, অংশীজনরা মনে করেন, অগ্নিকাণ্ডের দায় বেবিচক এড়াতে পারে না। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল হক বলেন, ‘যখন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তখন এটার দোষ কে কার ঘাড়ে চাপাবে তা নিয়ে ব্যস্ত। বিমান বলে, আমরা দায়ী না, সিভিল এভিয়েশন দায়ী। সিভিল এভিয়েশন বলে, আমরা দায়ী না, বিমান দায়ী। যদিও এখানে ওয়েল-ডিফাইন্ড ট্রান্সপারেন্সি নেই। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার একটা জ্বলন্ত উদাহরণ এটা।’
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনাল শুধু পণ্য সংরক্ষণের জায়গা নয়। জাতীয় বাণিজ্য ও বিমান নিরাপত্তার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, ঝুঁকির বিষয়টি আগে থেকেই জানার পরও ব্যবস্থা না নেয়া হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
 
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে বেবিচক। তাই প্রশ্ন উঠছে, সংস্থাটির দায়িত্ব কি শুধু উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাকি পুরো বিমানবন্দর এলাকার অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকিও পর্যালোচনা করা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব এখন সরকারের।