দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

শার্শায় টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগ

27

সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোরের শার্শার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ওই টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রবাসীর বাবা, ছেলে ও এক স্বজনকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বসতপুর গ্রামের শাহাজান মোল্যা (৬০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে চাকরির আশায় টাকা দেওয়ার পর প্রায় ছয় মাস অপেক্ষা করেও কাজ না পেয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে শাহাজান মোল্যার ছেলে আবু রায়হান রিপনকে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে রয়েছেন। পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগে তার বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আবু রায়হান রিপনকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় শাহাজালালের সঙ্গে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার চুক্তি করেন শাহাজান মোল্যা। চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা পরিশোধের পর ১৬ ফেব্রুয়ারি রিপনকে তিন মাসের টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

তবে সৌদি আরবে যাওয়ার পরও তাকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহাজান মোল্যা। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের ব্যবস্থা না হওয়ায় রিপন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিভিন্ন সময়ে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় ছয় মাসেও কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট বিকেলে পাওনা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত চাইতে গেলে শাহাজান মোল্যার সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে গালিগালাজ করা হয়। পরে শাহাজান মোল্যা, তার ছেলে আবু রায়হান রিপন এবং সঙ্গে থাকা আলাউদ্দিনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এতে তারা আহত হলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে আবু রায়হান রিপনকে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় টাকা ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি শাহাজান মোল্যাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।