দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

মোংলায় সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকা সুরক্ষায় নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

30

মোংলা :

টেকসই উন্নয়ন, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষার লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় “টেকসই উন্নয়নের জন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকার সুরক্ষা” শীর্ষক দিনব্যাপী নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংলাপের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা থেকে সুন্দরবন দীর্ঘদিন ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রক্ষা করে আসছে। অথচ সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে এই অঞ্চলেরই কিছু মানুষ। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাইকে সুন্দরবন রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি পরিবেশবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী একজন “গ্রিন প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে সবুজায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবননির্ভর জেলে পরিবারের জন্য অতীতে কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা ছিল না। এবারই প্রথম সরকার সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য ৬৬১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের কোনো ইটভাটায় আর কাঠ পোড়াতে দেওয়া হবে না। নতুন করে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে না; বরং সৌর ও বায়ুশক্তিনির্ভর নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমাতে রাজধানী ঢাকার ২০ থেকে ২৫ বছর পুরোনো গণপরিবহন পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হবে।

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধে যদি বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস। দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই ফুসফুসকে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।”

পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ব্রাইটার্স, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, সচেতন ফাউন্ডেশন এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে “People’s Mandate: Manifesto to Action” সিরিজের অংশ হিসেবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে সুন্দরবন সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং টেকসই নীতিমালা প্রণয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনরা মতবিনিময় করেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী মনিরা শারমিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ খুলনার সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ এবং সুন্দরবন জাদুঘরের পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস।

উদ্বোধনী অধিবেশনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক অঙ্গীকার নিয়ে বক্তব্য দেন রিভার বাংলার সম্পাদক ও ‘ধরা’-এর কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সচেতন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ‘ধরা’-এর নেতা হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ।

বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ অধিবেশনের বিষয় ছিল “দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জীবন-জীবিকা ও বাস্তুতন্ত্র”। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং সভাপতিত্ব করেন মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কে. এম. রব্বানী।

বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, গবেষক রফিকুল ইসলাম মন্টু, ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফারিহা অমি, সাইদুর রহমান সিয়াম, জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ডলফিন সংরক্ষণ দলের নেতা ইসরাফিল বয়াতি, কমলা সরকার, ডলার মোল্লা, শাহীন খলিফা ও আরাফাত দুর্জয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি।

দিনব্যাপী সংলাপের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ‘ধরা’-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল। অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বননির্ভর জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে Manifesto Talk আয়োজন করা হয়েছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করতেই People’s Mandate: Manifesto to Action শীর্ষক ধারাবাহিক সংলাপের আয়োজন করা হচ্ছে।