শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় অরাজকতা। আইনশৃঙ্খলা状 পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে, বিভিন্ন থানায় হামলা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনা ঘটে। রাস্তা-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে জ্বালাও-পোড়াও, ‘মব জাস্টিস’-এর নামে নৃশংসভাবে মানুষ হত্যার মতো ঘটনাও বেড়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা পালিয়ে যান।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বচ্যুত হন তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন—যিনি বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। পরদিন ৬ আগস্ট রাতে ময়নুল ইসলামকে পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তখন দেশে কোনো কার্যকর সরকার ছিল না।
এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে একজন যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তা নিয়োগের লক্ষ্যে কয়েক দফা যাচাই-বাছাই শেষে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহারুল আলমকে সর্বোত্তম হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অতিরিক্ত কয়েক ধাপ যাচাইয়ের পর ২০ নভেম্বর তাকে আইজিপি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হয় এবং ২১ নভেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মনোবল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাহারুল আলম পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও পেশাগত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেন। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন—জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কিছু পুলিশ সদস্য গর্হিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিলেন; আইন লঙ্ঘন হয়েছিল, এবং এতে ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হন। এসব পরিস্থিতি পুরো বাহিনীকে বিপর্যস্ত করেছিল।
তিনি জোর দেন—অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করছে; তাই ভবিষ্যতে খুন, গুম বা বেআইনি কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।
সৎ ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি
বাহারুল আলম দীর্ঘদিন ধরে সৎ, নিষ্ঠাবান ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় বহন করে আসছেন। জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সম্মানও বয়ে এনেছেন। পেশাগত প্রতিযোগিতা থাকলেও বিরোধীরাও তার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না।
বিবেকের তাড়নায় তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন—যদিও তিনি তখন কোনো দায়িত্বে ছিলেন না এবং রাষ্ট্রীয়ভাবেও তার ওপর এমন কোনো দায় ছিল না। অতীতে কোনো আইজিপির এমন সাহসী ও মানবিক উদাহরণ নেই।
প্রপাগান্ডার মাঝেও এগিয়ে যাওয়া
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য ছড়ালেও সেগুলোর কোনোটিরই সত্যতা মেলেনি। তবুও তিনি ঠাণ্ডা মাথায় বাহিনীকে এগিয়ে নিচ্ছেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পুলিশের শৃঙ্খলা, সেবা ও ভাবমূর্তিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে—যা তার দূরদর্শিতা, ধৈর্য ও দক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফল।
রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের লক্ষ্যবস্তু
গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে—দেশ যখন নির্বাচন ও চলমান সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত, তখনই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশ প্রধানকে বিতর্কিত করতে চাইছে। লক্ষ্য—পুলিশকে দুর্বল করা, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়ে। কারণ শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশ স্থিতিশীল থাকতে পারে না।
ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছে। ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আইজিপিকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা নির্বাচনী প্রস্তুতি ব্যাহত করারই সমতুল্য।