দলের খুব দরকারি সময়ে আবারও জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গল্প লিখে আর্জেন্টিনা যে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল তা তো ক্ষুদে জাদুকরের কল্যানেই। নজরকাড়া পারফরম্যান্সে আসরের গোল্ডেন বুটের তালিকায় শীর্ষে উঠে এলেন ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি।
আতালান্তা স্টেডিয়ামে বুধবার বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। দলের দুই গোলেরই যোগানদাতা ছিলেন মেসি।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থ্যনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। আক্রমণের জোয়ার তুলে ৮৫তম মিনিটে এনজো ফের্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত খেবে মেসির বাড়ানো বল ডি বক্সের বাইরে থেকে উঁচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফের্নান্দেজ।
মেসির নেতৃত্বে আক্রমণ চালিয়ে যায় গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফলও পেয়ে যায় তারা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মেসির ডান পায়ের ভয়ঙ্কর ক্রস গোলমুখ থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান লাওতারো মার্তিনেজ।
আসরে এনিয়ে টানা দুই ম্যাচ গোলহীন থাকলেন মেসি। তবে গোলের সঙ্গে সংযোগ ছেদ হয়নি কিংবদন্তির। আট গোলের পাশাপাশি আসরে তার অ্যাসিস্ট হলো ৪টি।
আসরে আট গোল আছে প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়া ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেরও। তবে ফরাসি তারকার চেয়ে গোলে সহায়তায় এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুটের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন মেসি। এমবাপের গোলে সহায়তা তিনটিতে।
মেসি এখনও বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তালিকায় শীর্ষেই আছেন ২১ গোল নিয়ে, এমবাপে ২০ গোল নিয়ে ঠিক তার পিছনে।
সাত গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও দলটির আরেক তারকা জুড বেলিংহ্যামের গোল ৬টি করে।
ফিফা গোল্ডেন বুট কী এবং কিভাবে নির্ধারিত হয়?
টুর্নামেন্ট শেষে সর্বাধিক গোল করা খেলোয়াড়কে গোল্ডেন বুট দেওয়া হয়। যদি দুই খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করেন, তবে সর্বাধিক অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড় জয়ী হন। গোল ও অ্যাসিস্ট সমান হলে, কম সময়ে গোল করা খেলোয়াড়কে পুরস্কার দেওয়া হয়।
বর্তমান শীর্ষ গোলদাতারা (বিশ্বকাপ ২০২৬)
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) – ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) – ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট
আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে) – ৭ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড) – ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) – ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) – ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
মিকেল ওয়ারজাবাল (স্পেন) – ৪ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
পূর্বে গোল্ডেন বুট জয়ীরা
এমবাপে (২০২২, কাতার)
হ্যারি কেইন (২০১৮, রাশিয়া)
হামেস রদ্রিগেজ (২০১৪, ব্রাজিল)
এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি।
এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল
জাস্ট ফন্টেইন (ফ্রান্স) – ১৩ গোল (১৯৫৮, সুইডেন)
শানদর কচিস (হাঙ্গেরি) – ১১ গোল (১৯৫৪, সুইজারল্যান্ড)
গার্ড মুলার (পশ্চিম জার্মানি) – ১০ গোল (১৯৭০, মেক্সিকো)
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) – ২১
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) – ২০
মিরোস্লাভ ক্লোসে (জার্মানি) – ১৬
রোনালদো (ব্রাজিল) – ১৫
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) ও গার্ড মুলার (পশ্চিম জার্মানি) – ১৪