ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি ফেরত শিউলী বেগম ১০ দিন আগে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ওই বাড়িতে ওঠেন। এক কক্ষে থাকতেন তিনি ও স্বামী, অন্য কক্ষের মেঝেতে থাকতেন তার ছেলে রিয়াদ, যিনি পেশায় টাইলস মিস্ত্রি। রিয়াদের শারীরিক কষ্টের কথা ভেবে এলাকাতেই একটি দোকান চালু করে দিয়েছিলেন শিউলী বেগম। প্রায় ১ মাস ১০ দিন আগে তিনি প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দ্বিতীয় স্বামী মো. সাগরকে বিয়ে করেন।
হত্যার ৫-৬ দিন আগে শিউলী বেগম ব্যাংক থেকে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে বাড়িতে আনেন। পরিবারের সবাই বিষয়টি জানতো বলে জানা গেছে।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় বড় মেয়ে কেয়া বাড়িতে আসেন। এর আগে রিয়াদ কাজ শেষে মায়ের হাতে ৫০০ টাকা তুলে দেয়। ঘটনার দিন সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে বাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে রিয়াদ বের হয়ে যায়। এরপর সকালভর শিউলী বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তার স্বামী মো. সাগর। পরে তিনি বড় মেয়ে কেয়াকে ফোন করেন।
কেয়া বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে নানা বাড়ি ডুমুরিয়ায় যান। সেখানেও মাকে না পেয়ে ফিরে এসে গেটের সামনে মায়ের স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে বাড়িওয়ালাকে বিষয়টি জানান। পরে বাড়িওয়ালা ও পাশের বাড়িতে থাকা এক পুলিশ সদস্যের সাহায্যে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তিনি মায়ের মরদেহ দেখতে পান। কেয়ার দাবি, ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। আর টাকার জন্যই তার ভাই রিয়াদ মাকে হত্যা করে থাকতে পারে। ঘটনার পর ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে জানানো হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সিআইডি ও পিবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দলও রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। নিহতের পায়ের দিক থেকে একটি পুতো (ভোঁতা বস্তু) উদ্ধার করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শিহাব করীম জানান, ঘরটি ছিল বদ্ধ। মাথার তালুর বাম পাশে পুতো দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং এরপর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কে হত্যার সঙ্গে জড়িত। তদন্ত চলছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের ছেলে রিয়াদ পলাতক থাকায় তাকে খুঁজছে পুলিশ।