দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে সাঁকো ধসে দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

49

যশোর :

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সাগরদাঁড়ি-শার্শা সংযোগকারী কাঠ ও বাঁশের সাঁকো প্রবল স্রোতের তোড়ে ধসে পড়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে টানা ভারী বর্ষণের ফলে নদীতে সৃষ্টি হওয়া তীব্র স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি ভেঙে যায়। এতে নদের দুই পাড়ের প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কপোতাক্ষ নদের এই সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে যশোরের কেশবপুর ও সাতক্ষীরার শার্শা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাতক্ষীরার শার্শা উপজেলার শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতী, সরুলিয়া, ধানদিয়া ও কুঠিরঘাটাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এবং কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর ও রেজাকাটিসহ প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দা প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই সাঁকো ব্যবহার করতেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের মধুমেলাকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩০০টি বাঁশ ব্যবহার করে সাঁকোটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ ও নদীর প্রবল স্রোতে সেটি টিকতে পারেনি।

সাঁকোটি ধসে পড়ার পর বর্তমানে নদের দুই পাড়ের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করছেন। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস এবং সাগরদাঁড়ি আবু শরাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নদের ওপারের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নদের ওপারের অধিকাংশ মানুষ কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সাগরদাঁড়ি বাজারের ওপর নির্ভরশীল। সাঁকো ধসে পড়ায় বাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, ২০১১ সালে সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির উদ্যোগে দুই পাড়ের মানুষের সহযোগিতায় প্রথম সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে এটি সচল রাখা হলেও প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হয় হাজারো মানুষকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতি বছর অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণে অর্থ ব্যয় হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর দাবি, কপোতাক্ষ নদের ওপর দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হলে যশোরের কেশবপুর ও সাতক্ষীরার শার্শাসহ দুই জেলার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। তারা এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।