মোংলা :
সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধে এক দস্যু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাহিনীর প্রধানসহ দুই দস্যুকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে টানা দুই দিন সুন্দরবনের গহীনে বিশেষ অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। অভিযানের সময় দস্যুদের দুটি ট্রলার থামানোর সংকেত দিলে তারা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
একপর্যায়ে দস্যুদের একটি ট্রলারে আগুন ধরে যায় এবং অপরটি ডুবে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই’ বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী শওকত সরদারকে উদ্ধার করা হয়। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পালিয়ে যাওয়া দস্যুদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ইসরাফিল হাওলাদার নামে আরেক দস্যুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়।
অভিযানে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ৬টি একনালা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত শওকত সরদার (৫৫) খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। আটক ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত দস্যুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।