সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও বনজীবীদের স্বাভাবিক জীবন ফেরানোর দাবিতে সাতক্ষীরায় পঞ্চম দিনের মতো মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরায় লাগাতার পঞ্চম দিনের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর ) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন হরিনগর বাজারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে দুই হাজারের অধিক বনজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন লিটনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টু, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রহমান, মৌয়াল বাবর আলী গাজী, জেলে মো. আব্দুর রহমান এবং বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক সরদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবন কেবল বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সম্পদই নয়, এটি উপকূলীয় লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। অথচ বর্তমান সময়ে বনদস্যুদের চরম আতঙ্কে জেলেরা নিরাপদে বনে প্রবেশ করতে পারছেন না। মুক্তিপণ দিতে দিতে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি মুক্তিপণ দিতে সামান্য বিলম্ব হওয়ায় অনেকের হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও বলেন, সুন্দরবনে কোনো ধরনের নাটক বা প্রহসন নয়, প্রকাশ্যে দস্যুদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জেলেদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয়ভাবে দস্যুদের সহযোগিতাকারী কুচক্রীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। বনবিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, একদিকে দস্যুদের দৌরাত্ম্য, অন্যদিকে বৈধ পাস-পারমিট থাকা সত্ত্বেও বনকর্মকর্তাদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়—এই দুইয়ের যাঁতাকলে বনজীবীরা আজ দিশেহারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামুজ্জাহান কণকের নিকট একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
স্মারকলিপিতে সুন্দরবনের নদী ও খালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার, বনদস্যুদের দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।