মোংলা :
সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও জলবায়ুকর্মীরা। তারা বলেন, কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানি পরিবেশ, জলবায়ু ও প্রাণ-প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থনৈতিকভাবেও টেকসই নয়। তাই খাসজমি, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও রেললাইনের পাশে সোলার এনার্জি পার্ক বা সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলার দক্ষিণ কাইনমারি এলাকায় পশুর নদীর পাড়ে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও সুন্দরবন রক্ষায় আমরা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। শ্যামনগর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ একক পদযাত্রায় অংশ নেওয়া মাসফিকুল হাসান টনির পদযাত্রার প্রতি সংহতি জানিয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ। বক্তব্য দেন কোস্টাল ট্রাভার্সের মাসফিকুল হাসান টনি, ধরা’র নেত্রী কমলা সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের স্বেচ্ছাসেবক রত্না শেখ, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আবু হাসান, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র মেহেদী হাসান ও শ্রমিক নেতা মিজানুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, দেশের জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির আমদানি করা পণ্য ও যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক-কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
কোস্টাল ট্রাভার্সের মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই (Renewables Now)’ প্রচারাভিযানের বার্তা নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের উপকূল ধরে একক পদযাত্রা শুরু করেছেন মাসফিকুল হাসান টনি। জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে শুরু হওয়া ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ শ্যামনগরের পাঁচ নদীর মোহনা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১৯ দিন চলার কথা রয়েছে। পদযাত্রাটি কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসফিকুল হাসান টনি বেদকাশি, কয়রা, নলিয়ান, দাকোপ ও বাণিশান্তা হয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে মোংলায় পৌঁছান। সেখানে বনজীবী, জেলে, বাওয়ালি-মাওয়ালি ও পরিবেশকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
মোংলায় রাত্রিযাপনের পর বৃহস্পতিবার সকালে চিলা বাজার থেকে আবার একক পদযাত্রা শুরু করেন তিনি। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, তার এই পদযাত্রা মোংলা থেকে মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, পিরোজপুর, বরগুনার পাথরঘাটা, কুয়াকাটা, চরফ্যাশন, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বাঁশখালী, কক্সবাজার ও টেকনাফ হয়ে শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে শেষ হবে।
ধরা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের নেতৃত্বে ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ‘Renewables Now’ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।