দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

শীতের তীব্রতায় আগুনেও শীত নিবারণ হচ্ছে না

98

হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর) :পৌষের মাঝামাঝি থেকেই কেশবপুরে বইছে কনকনে হিমেল হাওয়া। রাতের তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাওয়ায় উপজেলার জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও পথচারীদের জন্য শীত যেন এক নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শীত নিবারণের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসা ভাসমান শীতবস্ত্রের দোকানগুলো। সকাল থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত কেশবপুর শহরের অলিগলি, বাসস্ট্যান্ড, বাজার চত্বর ও প্রধান সড়কের পাশে বসছে গরম কাপড়ের অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে কম দামে বিদেশি পুরনো সোয়েটার, জ্যাকেট, ট্রাউজার, মানকি ক্যাপ, হাত-পায়ের মোজা ও শিশুদের শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ভাসমান ব্যবসায়ী কাওসার আলী জানান, এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি আসছেন ভ্যানচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকার মধ্যেই সোয়েটার, ট্রাউজার বা জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে। এই দামে না দিলে মানুষ কিনতেই পারত না।

ফুটপাতে ভিড় করা ক্রেতা ইলিয়াস হোসেন বলেন,সাত সদস্যের পরিবারে আমি একমাত্র উপার্জনকারী। বাজারের দোকানে শীতের পোশাক কিনতে গেলে অনেক টাকা লাগে। তাই খোলা বাজার থেকেই কম দামে গরম কাপড় কিনছি। পুরনো কাপড় না থাকলে পরিবার নিয়ে শীতে টিকে থাকাই কষ্টকর হতো।

শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থতা। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ঠান্ডাজনিত সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পথশিশু, গৃহহীন ও খেটে খাওয়া মানুষজন।

এদিকে জানুয়ারি মাস শুরু হলেও এখনো সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সহায়তা খুবই কম। একজন ব্যবসায়ী বলেন,যদি পুরনো কাপড় না আসত, তাহলে এই এলাকার গরিব মানুষজন শীতে চরম বিপদে পড়ত।

শীতের এই দাপটে দ্রুত ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে। কেশবপুরে ফুটপাতের এই অস্থায়ী গরম কাপড়ের হাটই এখন হাজারো শীতার্ত মানুষের শেষ ভরসা।