দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

মোংলায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা, মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি

16

মোংলা প্রতিনিধি:মোংলা পৌর শহরতলীর চৌকিদারের মোড় এলাকায় একটি মার্কেটসহ জমি জবর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমির বৈধ মালিকপক্ষের দাবি, একটি কুচক্রী মহল পুলিশের এক এএসআইয়ের সহযোগিতায় ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মালগাজী মৌজার চৌকিদারের মোড় এলাকায় ব্যবসায়ী ইস্রাফিল হাওলাদার ২০২০ সালে বৈধভাবে একটি মার্কেটসহ মোট ১ একর ৭৬ শতক জমি ক্রয় করেন। এর মধ্যে স্থানীয় কৃষ্ণপদ মণ্ডলের কাছ থেকে ১ একর ৪৩ শতক ও বিনয় মণ্ডলের কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি দলিল মূলে কেনা হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। এমনকি ওই জমির একটি অংশ পরবর্তীতে অন্যদের কাছেও বিক্রি করা হয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে লোকজন বসবাস করছেন।
কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল জমি ও মার্কেটটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকপক্ষের দাবি, স্থানীয় নরোত্তম মণ্ডল ও আলামিন খাঁ নিজেদের ওই জমির অংশীদার দাবি করে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দাখিল করেন। এ নিয়ে একাধিকবার থানা পুলিশ ও স্থানীয় শালিস-বৈঠক হলেও চক্রটি তাদের দাবির স্বপক্ষে কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়।
জমির মালিক ইস্রাফিল হাওলাদারের কেয়ারটেকার মোঃ তাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্নভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলা থানার এএসআই সুব্রতের উপস্থিতিতে জমি মাপার নামে ওই সম্পত্তি জবরদখল ও স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমানের নির্দেশে পুলিশ কর্মকর্তা ও দখলদাররা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
কেয়ারটেকার তাজুল ইসলাম আরও জানান, মোংলায় আগে কর্মরত থাকা একজন সার্কেল এএসপির সাথে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে আলামিন খাঁ ও নরোত্তম মন্ডল বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা এএসআই সুব্রতকে ব্যবহার করে জমিটি দখলে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং এ নিয়ে মুখ না খুলতে মালিকপক্ষকে ক্রমাগত ভয়ভীতি, হুমকি ও চাপ প্রদাণ করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা থানার এএসআই সুব্রত জমি দখলের চেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, সেখানে কোনো দখল নয়, বরং জমি পরিমাপের সময় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আমি অবস্থান করছিলাম।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, কোনো আদালতের নির্দেশনা বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট আদেশ ছাড়া একজন এএসআই-এর উপস্থিতিতে জমি মাপার নামে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা রহস্যজনক। বর্তমানে ওই ব্যবসায়ী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।