দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

মুম্বাই থেকে আটক করে আসাম সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ দাবি

সাতক্ষীরায় আশ্রয়ে ভারতীয় নারী

24

সাতক্ষীরা :

ভারতের মুম্বাই থেকে আটক করে আসাম সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন শাহিদা ফকির (পিতা: মোহাম্মদ আমিনুদ্দিন গাজী) নামে এক ভারতীয় নারী। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামে স্থানীয় আবুল বাশার ও তার স্ত্রী আরিফা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

শাহিদা ফকিরের দাবি, তিনি গত প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। চলতি মাসের ১৮ বা ১৯ জুলাই রাতে স্থানীয় একটি বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয় দেওয়া ৪-৫ জন ব্যক্তি তাকে আটক করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি থাকার পরও সেগুলো দেখতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, এরপর তাকে মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন আটকে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে বিমানে করে তাকে আসাম সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।

শাহিদা ফকির আরও জানান, সীমান্ত পার করার সময় কয়েকজনকে একসঙ্গে পাঠানো হলেও পরে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায় তিনি কোনোভাবে বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

তার ভাষ্য, এক মাস আগে শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বামী মুম্বাই থেকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার গোবিন্দপুর গ্রামে চলে যান। বর্তমানে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ভারতে রয়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে এবং সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চান।

আশ্রয়দানকারী আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী আবুল বাশার চিকিৎসার জন্য ভারত থেকে ফেরার পথে বেনাপোলে অসহায় অবস্থায় শাহিদা ফকিরকে দেখতে পান। মানবিক কারণে তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে গত কয়েকদিন ধরে আশ্রয় দিয়েছেন।

আরিফা বেগম বলেন, “তার গায়ে কাদা-মাটি লেগে ছিল, জামাকাপড় ছেঁড়া এবং হাত-পা ফুলে ছিল। তিনি বারবার সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে সাহায্যের আবেদন করছিলেন।”

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ঢাকার দুই সাংবাদিক তাদের বাড়িতে গিয়ে শাহিদা ফকিরের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার কথা জানিয়েছেন।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ভারত থেকে আসা এক নারী ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন—বিষয়টি সত্য। তবে তিনি স্থানীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেননি। তাকে ভারতের অন্য কোনো সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, “বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।