দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ভারী বৃষ্টিতে বাগেরহাটে জনদুর্ভোগ চরমে, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০২ হেক্টর কৃষিজমি

29

 বাগেরহাট:

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কয়েকদিন ধরে টানা ও থেমে থেমে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে জেলার কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা। ইতোমধ্যে ৭০২ হেক্টর কৃষিজমির ফসল পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মোংলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌর শহরের শালতলা, মুনিগঞ্জ, পৌরসভা এলাকা, কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার, ফলপট্টি মোড়, মারিয়া পল্লী, সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশও নোংরা হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নয়ন দেব বলেন, ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বাজার ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে গেছে। অনেক দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মুন্না ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

রিকশাচালক খালেক হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই পৌরসভার সামনের সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মোটরচালিত রিকশার মোটর নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে রিকশারও ক্ষতি হয়। মেরামতেই আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, অতিবৃষ্টিতে জেলার ৭০২ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, মরিচ এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার কোনো মাছের ঘের প্লাবিত হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঘের তলিয়ে যাওয়া কিংবা মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে।

বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পৌরসভার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি জমেছে। বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টানা বর্ষণের কারণে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাল-নালা নিয়মিত খনন ও পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।