দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

বাংলাদেশে পুনরায় বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করলো নেপাল

35

আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যায় দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর স্থগিত হওয়া বিদ্যুৎ রপ্তানি গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পুনরায় শুরু করেছে নেপাল। ভারতের জাতীয় গ্রিড বা ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী নদীর তীব্র বন্যায় ত্রিশূলি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেন্দ্র দুটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি ছিল। এই প্লাবনের কারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিও আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) অন্যান্য বিকল্প জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহের অনুমোদন দেওয়ার পরই এই রপ্তানি পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, এখন থেকে ‘সোলু খোলা’ এবং ‘কাবেলি বি-১’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠাবে নেপাল। আর ‘লোয়ার মোদি খোলা’ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে ভারতের হরিয়ানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ইতিপূর্বে অনুমোদিত ত্রিশূলি, চিলিমে এবং দেবীঘাট কেন্দ্রগুলোর স্থলাভিষিক্ত হলো এই নতুন প্রকল্পগুলো।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা বলেন, “বন্যা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও দ্রুত বাংলাদেশে সরবরাহ চালু করতে পারা এবং অন্যান্য প্রকল্পে বিদ্যুৎ বিক্রি বজায় রাখা নেপালের আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য এক বড় অর্জন। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়াতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

উল্লেখ্য, মৌসুমভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুসারে, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে নেপাল।

এদিকে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এনইএ ভারতে মোট ৫.৯২৫ বিলিয়ন রুপি (৫৯২.৫ কোটি রুপি) মূল্যের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। একাধিক কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও যা গত বছরের একই সময়ের এবং বিগত মাসের আয়ের চেয়েও বেশি।

এনইএ-এর লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এলডিসি)-এর তথ্যমতে, আলোচ্য এক মাসে নেপাল ভারতে ৬৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার (৬৩৩.৯৮৬ মিলিয়ন) ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে। বানের তোড়ে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদিত কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ায় রপ্তানি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চূড়ান্ত আয়ে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

গত বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে নেপালের আয় হয়েছিল ৪.৯৬৩ বিলিয়ন রুপি, যা থেকে এবার অতিরিক্ত ৯৬২ মিলিয়ন রুপি বেশি অর্জিত হয়েছে। এমনকি চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মেয়াদের আয় (৫.০৯২৫ বিলিয়ন রুপি) থেকেও এবার ৮৩২.৫ মিলিয়ন রুপি বেশি আয় করেছে দেশটি।

দুইটি প্রধান মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ বিক্রি করা হয়েছে। এরমধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ বিক্রি চুক্তির আওতায় ভারতের হরিয়ানা ও বিহার রাজ্যে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জ (আইইএক্স)-এর ডে-অ্যাহেড ও রিয়েল-টাইম মার্কেটে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা হয়েছে।

স্বদেশি চাহিদা মেটানোর পর বর্ষাকালে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাইরে বিক্রি করে থাকে এনইএ। মধ্যমেয়াদী চুক্তির ভিত্তিতে প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত হরিয়ানা ও বিহারে এই বিদ্যুৎ পাঠানো হয়।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই নেপাল সর্বমোট ১৬.১৫১৩ বিলিয়ন (১,৬১৫.১৩ কোটি) রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।

পরিচালক শ্রেষ্ঠা জানান, বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে নেপালের রপ্তানি আয় বহুগুণ বেড়েছে। এই সময়ে ভারতে প্রেরিত মোট বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে এবং বাকিটা বিক্রি হয়েছে ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।