দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

ডারউইন টেস্ট; অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের স্বপ্নের দিন

27

নিকট ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী দল এমন দাপট দেখিয়েছে কবে? ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ প্রথম দিনেই কোনঠাসা করে রাখার পর উঠেছে এমন প্রশ্ন।

হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে স্রেফ ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই প্রথম টেস্টে কোনো ইনিংসে দুইশ রানের নিচে অলআউট হলো দলটি।

২০১৭ সালে মিরপুরের স্পিন মঞ্চে ২১৭ রান করে তারা। এতোদিন টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেটাই ছিল তাদের সর্বনিম্ন।

পরে বাংলাদেশের ব্যাটাররাও প্রমাণ দিয়েছেন নিজেদের। সফরকারীরা দিন শেষ করেছে ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে।

৪৯ বলে ৬ চারে ৩৫ রানে ব্যাট করছেন মুমিনুল হক, ৬৭ বলে ৪টি চারে ৩২ রানে তানজিদ হাসান।

দিন শেষে হাতে ৯ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

ছোট্ট ইনিংসের পথে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এসেছেন মুমিনুল। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন এক সমেয়র সতীর্থ তামিম ইকবালকে।

৭৮ টেস্টে ৫ হাজার ১৩১ রান নিয়ে এই ম্যাচ শুরু করেন মুমিনুল। ৭০ টেস্টে তামিমের রান ১০ সেঞ্চুরি আর ৩১ ফিফটিতে ৫ হাজার ১৩৪। এই তালিকার চূড়ায় থাকা মুশফিকুর রহিমের রান ৬ হাজার ৮০৬।

তবে দিনের আসল গল্পটা হাসান মাহমুদকে নিয়ে। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন হাসান। তিন সংস্করণ মিলিয়েই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই প্রথম ৫ উইকেট নিলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার।

বাকি চার উইকেট সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।

এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন পেসাররা। সেই ইনিংসেও ৫ উইকেট পেয়েছিলেন হাসান।

মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটে সবুজ ঘাসের উইকেটে টসজয়ী অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা অবশ্য ছিল দারুণ। ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি পেয়ে যায় তারা।

শুরু থেকেই দারুণ লাইন-লেন্থে বল করছিলেন হাসান। ফল মেলে দলীয় ১২তম ওভারে। ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ভুল করেন জ্যাক ওয়েদারাল্ড। বল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে।

আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডও হাসানের শিকার। তার পরের ওভারের চতুর্থ বলে ভালো লেংথ থেকে বল ভেতরে ঢুকে হেডের ব্যাটে লেগে স্টাম্পের বেলস ফেলে দেয়।

তিন ওভার পর ইবাদতের দারুণ ডেলিভারি মার্নাস লাবুশেনের ব্যাট ছয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে আশ্রয় নেয়।

লাঞ্চের আগেই তিন উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা তখন চাপে। সেই চাপ বাড়িয়ে দেন তাসকিন, গ্রিনকে ফিরিয়ে। বিনা উইকেটে ৪৫ থেকে ৭৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বিরতিতে যায় অজিরা।

ফিরে এসে লাবুশেনের সঙ্গে জুটির আভাস দেন কেয়ারি। ইনিংসের একমাত্র ফিফটি জুটিও উপহার দেন তারা।

তবে জুটি বেশিদূর নিতে দেননি ইবাদত। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে কেয়ারিকে (৪৩ বলে ১৯) বোল্ড করে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন এই ডানহাতি পেসার। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে।

পরপরই তাসকিনের বলে ভুল লাইনে ব্যাট চালিয়ে বোল্ড হন বাউ ওয়বস্টার (১০ বলে ১২)।

দ্বিতীয় সেশনের শেষ সময়ে নিজের টানা দুই ওভারে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে উইকেটের পিছনে ক্যাচ বানান হাসান মাহমুদ।

দারুণ লাইন লেন্থে এখন পর্যন্ত ১৪ ওভারে ৪৬ রানে হাসানের শিকার ৪ উইকেট। দুটি করে নিয়েছেন তাসকিন ও ইবাদত।

প্রথম সেশনে দুবার জীবন পান স্মিথ। প্রথমবার ২ রানে, স্লিপে তার ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ হাসান। পরেরবার ২১তম ওভারে। তখন তার রান ৭। ইবাদতের বল স্মিথের ব্যাটের খুব কাছ দিয়ে গিয়ে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে।

ক্যাচের আবেদনের সঙ্গে উদ্‌যাপনেও মেতে ওঠেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। কিন্তু আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট দেননি। দ্রুত রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিভিউ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করেন স্মিথ।

History

কিন্তু আলট্রাএজে কোনো ‘স্পাইক’ বা শব্দতরঙ্গ ধরা পড়েনি। ফলে টিভি আম্পায়ারের মাঠের আম্পায়ার ধর্মসেনার নটআউট সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। ফিরে আসেন স্মিথ।

চা বিরতির পর হাসানকে তেড়ে এসে মারতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। সহজেই বল গ্লাভসবন্দী করেন লিটন দাস। দুইবার জীবন পেয়ে ১০৯ বলে এক ছয় ও সাত চারে ৭১ রান করেন স্মিথ।

এই উইকেট দিয়ে ম্যাচ ৫ উইকেট পূরণ করেন হাসান। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে প্রতিপক্ষের মাটিতে টেস্টে সর্বোচ্চ তিনবার ৫ উইকেট নিলেন তিনি।

এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন হাসান। এবার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

নিজের পরের ওভারে শর্ট ডেলিভারিতে নাথান লায়নকে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ বানান হাসান। ৫৩ ওভারে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। ২২ বছর পর টেস্ট ফিরল ডারউইনে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৪ ওভারে ৯৬/১ (সাদমান ২০, তানজিদ ৩২*, মুমিনুল ৩৫*; স্টার্ক ৭-১-২৮-১, হেইজলেউড ৭-২-১৯-০, গ্রিন ৩-১-১২-০, কামিন্স ৪-০-১৪-০, লায়ান ৩-০-১৬-০)

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৫৩ ওভারে ১৯৮ (হেড ২২, ওয়েদেরল্ড ২৩, লাবুশেন ১, স্মিথ ৭১, গ্রিন ১৩, কেয়ারি ১৯, ওয়েবস্টার ১২, কামিন্স ৯, স্টার্ক ১, লায়ন ৭, হেইজেলউড ৪*; তাসকিন ১৬-২-৫৫-২, মাহমুদ ১৭-৩-৫৫-৬, ইবাদত ১১-২-৩৯-২, মিরাজ ৪-০-১২-০, তাইজুল ৫-০-২৪-০)