দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানাল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, পরীক্ষায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া মেলেনি

31

 পাইকগাছা :

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ রঙ ধারণের ঘটনায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী সিউডোমোনাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাংসে পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের ধারণা, মাংসের সবুজ রঙ ধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ বা পচনের কারণে হয়নি।

স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ফ্রিজে সংরক্ষণের পর রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসায় মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক ও গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে সবুজ রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই পাইকগাছা উপজেলা সদরের মডার্ণ বেকারির কর্মচারীরা বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে রান্নার সময় সেটির রঙ সবুজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। বেকারির কর্মচারীরা জানান, তারা নিয়মিতভাবে মাসে একবার মাংস রান্না করে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে চার কেজি ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস কিনে রান্নার আয়োজন করা হয়।

বেকারির বাবুর্চি ও হেড মিস্ত্রি খন্দকার টিটন হোসেন রাকিব এবং নিয়মিত বাবুর্চি খায়রুল ইসলাম জানান, রান্নার প্রস্তুতির একপর্যায়ে মাংস কড়াইয়ে দেওয়ার পর তা দ্রুত সবুজ রঙ ধারণ করে। বিষয়টি পরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর মাংসের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয় ক্রেতা ও বিক্রেতার কাছ থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশের পর মাংসের সবুজ রঙ ধারণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া শঙ্কা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছেন উপজেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা উদয় কুমার মন্ডল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

তারা বলেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টির কারণ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেছে। ফলে গুজব বা বিভ্রান্তির পরিবর্তে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয়টি দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।