দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

খুবিতে দু’দিনব্যাপী ‘স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত

29

খুলনা :

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দিনব্যাপী ‘স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল: সিজন-১’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি (কেইউআরএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ ফেস্টিভ্যালের শেষ দিনে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ফরমাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডস সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র প্রকাশে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাজীবনেই একটি মানসম্মত গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারলে তা একদিকে একাডেমিক সক্ষমতার পরিচয় বহন করবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপাচার্য শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে আধুনিক গবেষণা সুবিধা, সমন্বিত গবেষণা অর্থায়ন, স্মার্ট ক্লাসরুম, স্মার্ট ক্যাম্পাস ও ডিজিটাল গবেষণা অবকাঠামোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ জ্ঞান সৃষ্টি করা। স্কলারশিপ ফেস্টিভ্যাল বিশ্ব দরবারে নিজেদের উপস্থাপনের একটি সুযোগ। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য ও ইচ্ছার পাশাপাশি ক্রিটিক্যাল থিংকিং, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, রিসার্চ রাইটিংয়ের সক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকা উচিত বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, “রিসার্চ হচ্ছে একটি লাইফটাইম জার্নি। এই যাত্রায় এগিয়ে যেতে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কলারশিপ হচ্ছে সেই সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।” তিনি বলেন, একসময় স্কলারশিপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া কঠিন ছিল। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন, কেইউআরএসের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. মতিউল ইসলাম এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াছিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি চয়ন বক্সী।

ফরমাল সেশন শেষে ‘DAAD Scholarship’-এর আবেদন নির্দেশিকা ও প্রস্তুতি কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত। এ ছাড়া ‘MEXT Scholarship’ নিয়ে আবেদন নির্দেশিকা ও প্রস্তুতি কৌশল তুলে ধরেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তারেক বিন সালাম।

দু’দিনব্যাপী এ ফেস্টিভ্যালে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া, প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।