দৈনিক খুলনা
The news is by your side.

এমনি এসে ভেসে গেলেন,জনমানুষের প্রিয় চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামানের অকাল প্রয়াণে কেশবপুরে শোকের ছায়া

78

যশোরের কেশবপুর জনমানুষের প্রিয় চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামানের অকাল প্রয়াণে কেশবপুরে শোকের ছায়া আমরা এমনি এসে ভেসে যাই যেন এই কথাটিই সত্যি করে চলে গেলেন জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ডা. মোঃ কামরুজ্জামান। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকাহত কেশবপুরসহ সমগ্র খুলনা অঞ্চলের মানুষ।

খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ডা. কামরুজ্জামান ছিলেন জনস্বার্থে নিবেদিত এক মানবিক চিকিৎসকের  জন্ম কেশবপুরের এক নিভৃত পল্লীতে। এমবিবিএস পাস করে বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে প্রথম পোস্টিং পান কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অল্প সময়েই তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও মানবিক আচরণে তিনি জয় করে নেন সাধারণ মানুষের হৃদয়।

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর সুস্থতার জন্য কেশবপুরের সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনায় শামিল হন।

তবে সব প্রার্থনাকে ব্যর্থ করে দিয়ে এলো তাঁর মৃত্যুর সংবাদ। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে সর্বত্র। যারা তাঁকে চিনতেন, তাঁর সান্নিধ্যে এসেছিলেন সবাই যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল)  রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল থেকে লাশবাহী গাড়িতে তাঁর মরদেহ কেশবপুর পাবলিক ময়দানে পৌঁছালে সেখানে জড়ো হয় সহস্র মানুষ। কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত জনতা। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুরের সংসদ সদস্য  অধ্যাপক মোঃ মোক্তার আলী, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক শেখ আবু শাহিন, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি মোঃ আশরাফুজ্জামান সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কেশবপুর নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এডভোকেট আবুবকর সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল, সাংবাদিক আজিজুর রহমান, প্রথম আলো প্রতিনিধি দিলীপ মোদক এবং অধ্যাপক প্রবেশ কুমার দাস।

এক সময় তাঁর চেম্বারের সামনে শত শত মানুষ চিকিৎসার আশায় অপেক্ষা করতেন। আর আজ, তাঁর শেষ বিদায়ে সেই একই মানুষদের ঢল নামে শ্রদ্ধা জানাতে।

তাঁর এই অকাল প্রয়াণে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। উল্লেখ্য, তাঁর এক সন্তান বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কারণে বাবার জানাজায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রথম পরীক্ষার দিন বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন সেটিই হয়ে থাকে তাঁদের শেষ দেখা।

সমাজে কিছু মৃত্যু চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। ডা. কামরুজ্জামানের মৃত্যু তেমনই এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাঁর আদর্শ ও মানবিকতা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এমনটাই বিশ্বাস এলাকাবাসীর।

মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার স্মৃতি রেখে, তিনি সত্যিই এমনি এসে ভেসে গেলেন।